শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৫৮
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২২:০৬

প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন ঢাকা মেডিকেলের সেই রাজ কুমার, সহযোগিতা চাইলেন মা

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন ঢাকা মেডিকেলের সেই রাজ কুমার, সহযোগিতা চাইলেন মা

মেধাবী ছাত্র রাজকুমার শীল (৫৬)। দারিদ্রতার কষাঘাতে বেড়ে উঠলেও নামের সঙ্গে রয়েছে রাজকীয় ভাব, চেহারাতেও রয়েছে সেই ছাপ। মেধার খেলায় চমক দেখিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পাড়ি দিয়েছেন বেশ কয়েকটি কঠিন ধাপ। কিন্তু নিয়তির কি পরিহাস! অবশেষে স্বাস্থ্য বিড়ম্বনায় যাত্রা থেমে যায় তার সামনে অপেক্ষাকৃত স্বফলতার পথ। 

অসহায় ও মানষিক ভারসাম্যহীন ঢাকা মেডিকেলের ৪০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ‘রাজ কুমার শীল’এর পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন বিরামপুর উপজেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর। সরকারিভাবে ওই পরিবারের দুই ভাইকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় বিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. রাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে রাজ কুমার শীলের মা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিবন্ধী কার্ডে চিকিৎসকের স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের নজরে আসে বিষয়টি।

রাজকুমার শীলের বাড়ি দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরশহরের ঘাট পাড় এলাকায়। নগিন শীল ও  মা পার্বতী রাণীর ছেলে তিনি। বাবা নগিন শীল পেশায় একজন নাপিত। পরিবারের চার ভাইয়ের মধ্যে সে মেঝ। এ ছাড়াও ২ বোন রয়েছে। 

বেশ কিছুদিন আগে রাজ কুমার শীল’র মা পার্বতী রাণী বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর চিকিৎসককে ছেলের শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজ সত্যায়িত করতে যান। তার দু’টি ছেলের প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য কার্ড করতে এ কাগজ দরকার ছিল। এসময় ডা. বেলায়েত হোসেন কাগজ হাতে নিয়ে রাজ কুমার শীলকে জিজ্ঞাসা করেন পড়াশোনা কত দূর করেছেন। তখন রাজ কুমার শীল নিজেকে ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র বলে পরিচয় দেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে ডা. বেলায়েত হোসেন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রাজ কুমার শীলের জীবনের গল্প তুলে ধরেন। মুহূতেই সেই ফেসবুক স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়ে যায়।  

মা পার্বতীশীল বলেন, ছোট বেলা থেকেই রাজকুমার শীল খুবই মেধাবি, প্রাথমিক ও জুনিয়ার বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছিল। ১৯৮০ সালে বিরামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাশ করেছে। এরপর ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করার পর ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হন। প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলেও দ্বিতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষায় ফার্মাকোলজিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর দ্বিতীয় বার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও ভালো রেজাল্ট করতে না পেরে গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় ( সিজোফেনিয়া) পড়ে যায়। এর পর দীর্ঘ ১৪/১৫ বছর ধরে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় রাজকুমার শীল।২০০৭ সালে সে নিজেই বাড়িতে ফিরে আসে। এর মধ্যে একবছর পাবনা মানষিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। রাজ কুমার শীলের আরেক ভাই আনন্দ শীল (৫০) ঢাকা তিতুমির কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিল। তিনিও একই রোগে আক্রান্ত হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করতে পারেননি।

মা পার্বতী রাণী ছেলের এসব কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, রাজকুমারের বাবা ৭ বছর আগে মারা গেছে। আমার তৃতীয় ছেলে গোবিন্দ ঢাকায় পত্রিকায় কাজ করে। সেই এ সংসার চালতো। কিন্তু সেও কিছুদিন থেকে অসুস্থ হয়ে সন্তান-ছেলেমেয়ে নিয়ে ঢাকায় আছে। এখন আমার ছোট ময়ে জেনিয়া দেবী ঢাকায় চাকরি করে। সেই এখন আমার সংসারে সাহায্য করছে। 

পার্বতী রাণী আরও বলেন, আজ যদি ছেলে রাজ কুমার শীল ডাক্তারি পাশ করতো সংসারে এত অভাব থাকতো না। সামর্থবান না হওয়ায় তাদের সাহায্যার্থে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য দরখাস্ত করেছি। এই অসহায় পরিবারের জন্য মেধাবি রাজ কুমার শীলএর মা পার্বতী রাণী শীল সমাজের বিত্তবাণ দানশীল ব্যক্তিবর্গের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য