শিরোনাম
প্রকাশ : ১১ জুলাই, ২০২০ ১৯:৪৫

রংপুরে দেড়শতাধিক বসতভিটা তিস্তার গর্ভে

রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরে দেড়শতাধিক বসতভিটা তিস্তার গর্ভে

ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে শনিবার সকালে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০ মিটার) ২৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গঙ্গাচড়ায় পানির স্রোতে ৯০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলায় অর্ধশত বসতভিটা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে গঙ্গাচড়ার নোহালী ইউনিয়নের নোহালী, চর নোহালী, বাগডোহরা, মিনার বাজার, চর বাগডোহরা ও নোহালী সাপমারী, আলমবিদিতর ইউনিয়নের হাজীপাড়া ও ব্যাংকপাড়া, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, উত্তর চিলাখাল, মটুকপুর, বিনবিনা মাঝের চর, সাউদপাড়া ও বাবুরটারী বাঁধেরপাড়, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের ধামুর ও গান্নারপাড়, লক্ষিটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, পূর্ব ইচলী, জয়রামওঝা, পশ্চিম ইচলী, মহিপুর ও কলাগাছি, গজঘন্টা ইউনিয়নের ছালাপাক, গাউছিয়া, জয়দেব, রমাকান্ত, একনাথ ও কালির চর এবং মর্নেয়া ইউনিয়নের আলাল চর, তালপট্টি চর, হাজির পাড়া, নরসিং ও মর্নেয়া চর তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

এছাড়া কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর, কাউনিয়া সদরসহ ৮টি চরগ্রাম তলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার ও পীরগাছা উপজেলার ছাওলা, তাম্বুলপুর, দক্ষিণ গাবুরা, চর গাবুরা ও রহমতের চরসহ ১০ গ্রাম তলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
চরের বাড়িগুলোর চারপাশে শুধু পানি আর পানি। হঠাৎ করে আসা পানিতে বাঁধ ছুঁই ছুঁই করছে। রান্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অনেকের ঘরে হাটু কিংবা কোমর পানি ওঠায় চুলা জ্বালাতে পারেনি চরের পরিবারগুলো। 

কোলকোন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু জানান, তিনি ভোরে পানিবন্দি এলাকা পরিদর্শন করে ত্রাণ সহায়তার জন্য পানিবন্দি পরিবারের তালিকা তৈরি করছেন। লক্ষিটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, তিনি রাত থেকে শংকরদহ ও বাগেরহাট এলাকার লোকজনকে নিয়ে ভাঙন রোধে কাজ করছেন। পানির স্রোতে তার এলাকায় ৯০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে আমরা সতর্কাবস্থায় রয়েছি। তিন্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিস্তা ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। 

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, অবিরাম বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে শুক্রবার থেকে। তিনি জানান, শনিবার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি বৃদ্ধির ফলে রংপুরের গঙ্গাচড়া, পীরগাছা কাউনিয়া চরাঞ্চলের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।


বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ


আপনার মন্তব্য