শিরোনাম
প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০২০ ১৬:২৬

এবার খানসামায় চা বাগান করে মমিনুরেশির সফলতা

ধানের জেলা দিনাজপুরে চা চাষ বাড়ছেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধানের জেলা দিনাজপুরে চা চাষ বাড়ছেই

কৃষি নির্ভর জেলা দিনাজপুর। জ্বলোচ্ছাস, ঝড়সহ প্রাকৃতিক তেমন দুর্যোগ নেই এ জেলায়। এখানের মাটিও উর্বর। তাই ধানসহ ফসল উৎপাদনও হয় বেশী। খাদ্যশষ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা দিনাজপুরে ধানের পাশাপাশি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, বিরামপুরের পর এবার খানাসামার সমতল ভূমিতে চা চাষে সাফল্য দেখা দিয়েছে। 

পাহাড়ি অঞ্চলের পর উত্তর জনপদের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারীর পর দিনাজপুরের সমতলে চা চাষের ক্ষেত্র দিন দিন বাড়ায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক অপার সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে।

অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউপির ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মমিনুর ইসলাম। তার ধান চাষের জমিতে চা বাগান দেখে উৎসাহী হয়ে অনেকে চা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে খানসামার গোবিন্দপুর গ্রামের রাজিব ইসলাম আত্রাই নদীর তীরে চার মাস আগে ৩ একর জমিতে চা চাষ শুরু করেছেন। 

এছাড়াও নেউলায় দুটি পরিবার ও পাকেরহাটের বাসিন্দা রুপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ঐশী চৌধুরীসহ অনেকে চা বাগান করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে দিনাজপুরসহ উত্তরের জেলাগুলোতে চা চাষ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন চা চাষীরা। একবার চা বাগান করলে সেখান থেকে ৮০-১০০ বছর চা পাতা সংগ্রহ করা যায়। এতে তৈরি হয়েছে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।

কৃষি অফিস জানায়, চা বাগানে নিবিরভাবে পরিচর্যা করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে বাগানে যেন পানি না জমে, সেজন্য গাছের গোড়া উচু করে দিতে হয়। চা গাছের ছায়া দিতে মাঝে মধ্যে লাগানো যেতে পারে পেয়ারা, নিম, আম ইত্যাদি গাছ। এ ছাড়াও খরার সময় পানি দিয়ে গাছ সতেজ রাখতে হয়। মাঝে মধ্যে জীবাণুনাশক ওষুধও স্প্রে করতে হয়। গাছ যত বড় হবে, পাতার পরিমাণ ততই বাড়বে। তবে লাল মাকড়সা ও মশা চা পাতা যেন না খেয়ে ফেলে তার জন্য ওষুধ ছিটানো প্রয়োজন। 

খানসামার সহজপুর গ্রামে দেখা যায়, চা বাগান মালিক মমিনুর ইসলাম, তার বাবা নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন শ্রমিক চায়ের পাতা সংগ্রহ করছেন। 

এসময় চা বাগান নিয়ে মমিনুর ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়ে চাকরি করতে গিয়ে চা চাষ দেখে উদ্ভুদ হয়ে দুই বন্ধুর পরামর্শে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে খানসামা উপজেলায় এক একর জমিতে চা চাষ শুরু করেন। এতে জমি প্রস্তুত, বীজ, শ্রমিক মিলে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা খরচ হয়। এরপর প্রথম ৬ মাসের প্রতিমাসে স্প্রে, নিড়ানি ও সার দিতে ৬/৭ হাজার টাকা খরচ হয়। এরপর গাছ বড় হওয়ার পর এখন প্রতিমাসে ৯/১০ হাজার টাকা খরচ হয়। চা বাগান করার ৬ মাস পর প্রথম এক কেজি চা পাতা সংগ্রহ হয়েছিল। তবে এবছর প্রথমে ৩০০ কেজি, দ্বিতীয়তে ৯৩০ কেজি এবং শেষে ১৫ জুলাই ৮৭৫ কেজি চা পাতা ১৪ টাকা কেজি দরে দেবীগঞ্জ পপুলার চা কারখানায় বিক্রি করেন। বাগান থেকে ৩৫-৪০ দিন পর পর চা পাতা সংগ্রহ করা যায়। গাছের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চা পাতা সংগ্রহের পরিমাণও বাড়বে। প্রতি মাসেই চা পাতা বিক্রি করা যাবে। একবার চা বাগান করলে সেখান থেকে ৮০-১০০ বছর চা পাতা সংগ্রহ করা যায়। এটা লাভজনক। তাই তিনি চা চাষ করার আহবান জানান।

খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন বলেন, হিমালয়ের পাদদেশে খানসামা উপজেলার অবস্থান হওয়ায় চা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া উপযুক্ত। চা গাছ নিবিড় পরিচর্যা, পরিমিত পানি সেচ দিতে এবং যত্নবান হতে হবে। ইতিমধ্যে দু’জন চা চাষে এগিয়ে এসেছেন। লাভজনক হওয়ায় চা চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য