শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর, ২০২০ ২১:৩৯

কয়লা-পাথরের উপর নির্ভরশীল নাকুগাঁও স্থলবন্দর

নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি:

কয়লা-পাথরের উপর নির্ভরশীল নাকুগাঁও স্থলবন্দর

ভারত থেকে ১৯টি পণ্য আমদানির অনুমতি থাকলেও শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় নাকুগাঁও স্থলবন্দরটি শুধু কয়লা ও পাথরের উপর নির্ভশীল। ব্যবসায়ীরা এ দুটি পণ্য ছাড়া অন্য কোন পণ্য আমদানিতে আগ্রহী নন।

 
এরপরও বছরের বেশীরভাগ সময় ভারতের বিভিন্ন সমস্যার কারণে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকে। অথচ কয়লা-পাথর ছাড়াও অন্যসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে গবাদিপশু, মাছের পোনা, ফল, গাছ, বীজ, রাসায়নিক সার, চায়না ক্লে, টিম্বার, পিয়াজ, মরিচ, রসুন, আদা, বল ক্লে ও কোয়ার্টজ। এ সব পণ্যের মধ্যে চলতি বছর শুধুমাত্র ১২ মেট্রিক টন আদা আমদানি করা হয়েছে। এ ছাড়া আর কোন পণ্য ব্যবসায়ীরা আমদানি করেননি।

দুই লেন সড়ক, কাস্টমস অফিস থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের সব ধরণের সুবিধা থাকার পরও আমদানি-রফতানি খুবই কম। ভারত অংশের ডালু থেকে তুরা পর্যন্ত ৪৮ কিমি নির্মাণ কাজ চলছে। কাস্টমস অফিসসহ অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ শেষ হয়েছে। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কারনে ১৯ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে সরকারী নির্দেশনায় জুন থেকে কার্যক্রম শুরু হলেও এখনও স্বল্প পরিসরে চলছে আমদানি রফতানি কার্যক্রম। 

অথচ বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ভারত থেকেই আমদানির প্রায় ৮০ শতাংশ চালানই আসে স্থলপথে। মূলত দেশের বড় বড় স্থলবন্দর দিয়ে হরেক রকম পণ্য এ দেশে প্রবেশ করে। ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশে ২২টি স্থলবন্দর আছে। এর মধ্যে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় নাকুগাঁও স্থলবন্দর। 

জানা যায়, ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাকুগাঁও স্থলবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করেন তৎকালীণ নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান। এ বন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন থাকায় ভিসাধারীদের ভারতে যাওয়া আসার সুযোগ রয়েছে। 

ব্যাবসায়ী মো.আবুল হোসেন(৪৫) বলেন, শুরু থেকেই আমরা কয়লা এবং পাথর আমদানি করে আসছি। অন্য যে সব পণ্য রয়েছে সেগুলো আমরা এখনো আমদানি করিনি। কারণ আমাদের কাছে কোন পাইকার বা ব্যবসায়ী এখন পর্যন্ত আদা, রসুন, পিঁয়াজ এগুলো চায়নি। তাহলে ঐ সব পণ্য এনে আমরা বিক্রি করবো কোথায়। কাঁচামাল তো দুএকদিন রাখা যাবে না। তবে সামনে হয়তো এ দিক দিয়ে ফল আসতে পারে।

নাকুগাঁও আমদানি-রফতানি কারক সমিতির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, ভারত অংশে ডালু থেকে তুরা পর্যন্ত ৪৮ কিমি সড়কের নির্মাণ কাজ চলছে। সেই কাজটি শেষ হলে যোগাযোগ ব্যয়টা কমে আসবে ফলে তখন ব্যাবসায়ীরা আদা, রসুন, পিঁয়াজ আনতে আগ্রহী হবে।

সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সঞ্জয় সরকার বলেন, দীর্ঘদিন সঙ্গনিরোধ রোগতত্ত্ববিদ পদটি শূন্য থাকায় ব্যবসায়ীরা কোন কাঁচামাল আমদানি করতো না। তবে এখন সেই পদে একজন কৃষিবিদ নিয়োগ হয়েছে। আশাকরি এখন ব্যবসায়ীরা কাঁচামাল আনতে আগ্রহী হবে। তাতে এই বন্দর দিয়ে রাজস্ব আদায় আরো বৃদ্ধি পাবে।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল 


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর