শিরোনাম
প্রকাশ : ২ মার্চ, ২০২১ ১৯:৩৩
প্রিন্ট করুন printer

সরাইলে বিএনপির কর্মসূচি স্থগিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

সরাইলে বিএনপির কর্মসূচি স্থগিত
দুই গ্রুপের সংঘর্ষ এড়াতে দিনভর সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছেন দলটির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। ফলে মঙ্গলবার তাদের আনন্দ মিছিল বা সভা কোনোটিই অনুষ্ঠিত হয়নি।

দলটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. নূরুজ্জামান লস্কর তপু কর্মসূচি স্থগিতের জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বাধীন গ্রুপের বাধাকে দায়ী করেছেন।

তবে পুলিশ বলছে, তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘাত এড়িয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কর্মসূচি বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেছি। দলটির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ এড়াতে দিনভর পুলিশ ছিল সতর্ক অবস্থানে। সোমবার রাত থেকেই সরাইল সদরে টহলের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ অবস্থান নিয়েছিল।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, সরাইল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পরই সাবেক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আক্তার হোসেনসহ সরাইল আহ্বায়ক কমিটির ৬ সদস্য তাদের কমিটিকে অবৈধ বলেন। ঘোষণার দুইদিন পরই গত সোমবার কমিটি বাতিলের দাবিতে সরাইল সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেন তারা।

জেলার আহ্বায়কের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। পথসভা চলাকালে পুলিশের হস্তক্ষেপে মাঝ পথেই বন্ধ হয়ে যায় ওই সভা। সোমবার সন্ধ্যার পর নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ মঙ্গলবার দিন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপজেলা আহ্বায়ক আনিছুল ইসলাম কর্মসূচি পালনের অনুমতি চান। নির্বাহী কর্মকর্তা খোলা জায়গায় নয়, আবদ্ধ কোনো ঘরে সভা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু রাত ১২টার পর পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন একই মুঠোফোনে আহ্বায়ককে জানিয়ে দেন এই কর্মসূচি বন্ধ থাকবে।

মঙ্গলবার সকালে সদস্য সচিব তপু নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাসে বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে ও দুস্কৃতিকারীদের অপতৎপরতা রোধকল্পে কৌশলগত কারণে আজকের কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হলো। পরে আপনাদের জানানো হবে।’

মঙ্গলবার সকাল থেকেই সরাইলের প্রধান সড়কগুলোতে চলছিল পুলিশের টহল। উপজেলা সদর থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরূত্বপূর্ণ স্থানে ছিল পুলিশের অবস্থান। থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা থেকে এক প্লাটুন পুলিশ আনা হয়েছিল।

অ্যাডভোকেট তপু বলেন, গত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আমাদের দলের সাবেক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আমার বিপক্ষে কাজ করেছেন। দলের উল্টা কাজ করতে গিয়ে তিনি দলীয় লোকদের দ্বারা লাঞ্ছিতও হয়েছিলেন। তাই ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতার সহযোগিতায় ও প্রভাবে তারা বিএনপির কমিটির বিপক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। দূরে কোথাও করতে চেয়েছিলাম। সেই অনুমতিও পাইনি। আবার প্রশাসনকে দিয়ে আমাদের কর্মসূচিও বন্ধ করে দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, আবদ্ধ ঘরে সভা করার কথা আমি কাউকে বলিনি। কথাটি সঠিক নয়। বিএনপির আহ্বায়ককে বলেছি একই দিনে আপনাদের দলের দুই গ্রুপের কর্মসূচি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। তাই জনস্বার্থে আপনারা সকল প্রকার কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকুন।

সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মো. আনিসুর রহমান বলেন, একই দলের এক গ্রুপ আনন্দ মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্য গ্রুপ দিয়েছেন বাধা দেয়ার ঘোষণা। তাই জনগণের জানমালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কর্মসূচি বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করেছি।

উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে জেলা বিএনপি। ওই কমিটিতে মো. আনিছুল ইসলাম ঠাকুরকে আহ্বায়ক ও অ্যাডভোকেট নূরূজ্জামান লস্কর তপুকে করা হয় সদস্য সচিব। কমিটি গঠনের পরই ক্ষোভ বিরাজ করে বিএনপির একাংশ। এ কমিটি বাতিলের দাবিতে হয়েছে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা। কমিটিকে সরাইলে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ।

বিডি প্রতিদিন/এমআই


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর