শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ জুন, ২০২১ ১৬:৪৭
প্রিন্ট করুন printer

নাটোরে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ৬৬

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ৬৬
Google News

নাটোর সদর হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দু'জন মারা গেছে। এছাড়া জেলায় নতুন করে ৬৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। মারা যাওয়া দু'জন হলেন সিংড়া উপজেলার বনকুড়ি গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মনসুরি বেগম এবং নাটোর শহরের হরিশপুর এলাকার আব্দুল লতিফ হোসেনের ছেলে রতন।

জেলা সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জিন এক্সপার্ট ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন মেশিনে ২৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬৬ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন মেশিনে ২৪৪ জনের নমুনায় ৪৯ জন এবং জিন এক্সপার্ট মেশিনে ৪৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। জেলায় সংক্রমণ হার ৩৭ শতাংশ। যা গতদিনের চেয়ে ১৪ শতাংশ কম। বৃহস্পতিবার সংক্রমণ হার ছিল ৫১ শতাংশ। 

এই নিয়ে জেলায় মোট ২৫৬৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মোট ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে।এদিকে করোনা উপসর্গ ও করোনায় আক্রান্ত ৬২ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এছাড়া ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাঁচজন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বাগাতিপাড়া শাখা অগ্রণী ব্যাংক লকডাউন 
ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াঙ্কা দেবী পাল এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই লকডাউনের ঘোষণা দেন।

নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মনজুর রহমান জানান, মুনসুরি বেগম ও রতন দু'জনেই বৃহ¯পতিবার বিকেলে করোনা উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে ভর্তি হন। নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার আগেই রাতে তাদের মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ৪২ জন এবং উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের ইয়োলো জোন ওয়ার্ডে ২০ জন  ভর্তি রয়েছেন।

সাধারণ রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীদের স্বজনরা হাসপাতাল চত্বরসহ বাজারে অবাধে যাতায়াত করছেন। এতে করে সাধারণ রোগীসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন। 

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. পরিতোষ কুমার রায় এ বিষয়ে বলেন, এ অবস্থায় আমরাও রয়েছি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। নিষেধ করার পরও তারা কখনও কখনও আমার ঘরেও ঢুকে পড়েন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে তাদের বার বার অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনছেন না। এ অবস্থায় প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা না নিলে গোটা হাসপাতাল সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, পিসিআর মেশিন না থাকায় সংক্রমণের হার নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জিন এক্সপার্ট ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন্ট টেস্টে যাদের পজিটিভ রিপোর্ট আসছে পিসিআর মেশিনে তাদের অনেকের রেজাল্ট নেগেটিভ দেখাচ্ছে। এছাড়া জিন এক্সপার্ট দিয়ে দিনে ২০টির বেশি নমুনা পরীক্ষা করতে পারেন না তারা। এ কারণে নাটোরে সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখীই থেকে যাচ্ছে। হাসপাতালে করোনা রোগীর সঙ্গে থাকা অভিভাবকদের বিষয়ে জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় এমপিকে বলা হয়েছে।

এদিকে সংক্রমণ রোধে নাটোর ও সিংড়া পৌর এলাকায় দ্বিতীয় দফা লকডাউনের তৃতীয় দিনেও শহরে নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া অন্যকোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলেনি। প্রতিদিনের মতো শুক্রবারও সকাল থেকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শক্ত অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া জেলা প্রশাসনের একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে।

বিডি প্রতিদিন/আল আমীন

এই বিভাগের আরও খবর