শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ আগস্ট, ২০২১ ২০:৫৮
প্রিন্ট করুন printer

চাঁদপুরে সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

নেয়ামত হোসেন, চাঁদপুর:

চাঁদপুরে সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি
Google News

কয়েকদিনের টানাবর্ষণে 'চাঁদপুর সেচ প্রকল্প' ও মতলবে 'মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প' দুটিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বসতবাড়িতে পানি এবং ফসলের মাঠ পানির নীচে তলিয়ে গেছে। আমন চাষীদের বীজতলা এখন পানির নীচে। দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে এই ক্ষতি আরও বৃদ্ধি পাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্পের মধ্যে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প ও মেঘনা -ধনাগোদা সেচ প্রকল্প অন্যতম। এই দু’টি সেচ প্রকল্পের মধ্যে চাঁদপুর সেচ প্রকল্পে ২২ হাজার হেক্টর জমি এবং মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে ১৪.১ হেক্টর জমি আবাদযোগ্য। প্রকল্প এলাকা দুটিতে বছরজুড়ে বোরো, আউশ ও আমন আবাদ হয়। চলতি সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে আমন রোপন। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। বীজতলা কয়েক ফুট পানির নীচে থাকায় কৃষকরা তা তুলতে পারছে না। এখন হতাশার মাঝে রয়েছে হাজারো কৃষক।

মতলব উত্তরে ইসলামাবাদ গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী ও সুলতান আহম্মদ জানান, আমাদের এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য দু’টি খাল রয়েছে। ওই খাল দু’টিই এখন দখল হয়ে আছে। ভারি বর্ষণে উপজেলার ইসলামাবাদ, দুর্গাপুর, লতরদি, এখলাছপুর, ফতেপুর, লুধুয়া সহ একাধিক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে গৃহবন্দি হয়েছি অনেকে। আমাদের ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল হাসান বাবু, পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ লাইন করে দিয়েছেন, তার একটি এখন বন্ধ। আমরা সবাই এর দ্রুত সমাধান চাই।

মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি ব্যবস্থাপনা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সরকার মোঃ আলাউদ্দিন সরকার জানান, ভারি বর্ষণ হওয়ায় তিনটি পাম্প চালানো হয়েছে। আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে জলাবদ্ধতা কেটে যাবে।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাউদ্দিন বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু সংখ্যক ফসল ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। সেচ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা অনুরোধ করেছি।

অপরদিকে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকার সদর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলায় আউশ ধান কাটতে গিয়ে কৃষকরা বিপাকে পরেছে। অনেকেই ধান কেটে জমিতেই রেখে দিয়েছেন। কাটা ধান এখন পানির নিচে। আবার অনেক কৃষক জলাবদ্ধতার কারনে আমন রোপন করতে পারছেন না। বীজতলা পানির নীচে। এই প্রকল্প এলাকার আখ, মৌসুমী সবজিসহ অনেক ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

সদর উপজেলার বাগাদী, বালিয়া, ইব্রাহীমপুর, চান্দ্রা, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কৃষকরা তাদের আমন বীজতলা থেকে বীজ উঠাতে না পারায় রোপন করতে পারছে না। আগামী ৩০/৩৫ দিনের মধ্যে আমন রোপন করার শেষ সময়। এই সময়ের মধ্যেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

বালিয়ার কৃষক সফিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে ফসলি জমি কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে আমন রোপন করতে পারছি না। আমাদের এই দুর্ভোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন আসছে না। দ্রুত জলাবদ্ধতা দূর করতে না পারলে, পুরো আমন মৌসুম ব্যহত হবে।

চাঁদপুর সেচ প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) সিয়াম আলী বলেন, কয়েক দিনের টানা বর্ষণে সেচ প্রকল্পে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা পুরো এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছি। কৃষকদের অভিযোগ আছে আমাদের লোকজন খোঁজ খবর রাখে না। মূলত আমাদের লোকবল সংকট আছে। যার কারণে মাঠ পর্যায়ে যেতে পারছে না।

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার