শিরোনাম
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট, ২০২১ ১৭:০৭
প্রিন্ট করুন printer

দুর্ভোগে দিশেহারা সিরাজগঞ্জের বন্যা কবলিত মানুষ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

দুর্ভোগে দিশেহারা সিরাজগঞ্জের বন্যা কবলিত মানুষ
Google News

বসতভিটা-ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের বন্যা কবলিতরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। টিউওয়েব তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। তাদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সারাক্ষণ পানিতে থাকায় পানিবাহিত রোগ দেখা দিতে শুরু হয়েছে। 

রান্নার চুলা তলিয়ে যাওয়া রান্না করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চলাফেরা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। ছোট ছোট নৌকা ও কলার ভেলা একমাত্র চলাচলের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাদের নৌকা বা ভেলা নেই তাদেরকে কোমরপানি ভেদ করে চলাচল করতে হচ্ছে। আর যারা ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে তারাও নানা সংকটে পড়েছে। বৃষ্টি হলে ঝুপড়ির মধ্যে রাতভর জেগে থাকতে হচ্ছে। এদিকে, ঘাসের জমি তলিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের কৃষকেরা গবাদি পশুর খাদ্য নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছে। অন্যদিকে চলতি বন্যায় জেলার প্রায় সাড়ে হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা চরম ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। এছাড়াও পানি বাড়ায় যমুনার অরক্ষিত অঞ্চলে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। দিকে যমুনাসহ অভ্যন্তরীণ ফুলজোড়, করতোয়া, ইছামতি ও বড়াল নদীর পানিও বাড়ছে। সব নদ-নদীতে পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের ফসল। একেবারে নিচু এলাকায় বাড়িঘরেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে।  

চর পুঠিয়াবাড়ী মহল্লার জাবেদ সেখ জানান, বসতভিটা তিনফুট পানির নীচে তলিয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে ওয়াপদা বাঁধে আশ্রয় নিয়ে খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। 

কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, চলতি বন্যায় প্রায় চারবিঘা জমির পাট ও রোপা আউশ ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষতির মধ্যে পড়েছি।
সিরাজগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, যমুনার নদীর পানি সিরাজগঞ্জের সব পয়েন্টেই বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পানি বাড়বে বলে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে।  

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু হানিফ জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে নিম্নাঞ্চলের চার হাজার ৩৬২ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এসব ফসলের মধ্যে রোপা আমন, বোনা আমন, আগাম সবজি, আখ বীজতলা ও বাদাম রয়েছে।  

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, বন্যাকালীন দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সাড়ে পাঁচশ’ টন চাল ও নগদ আড়াই লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। এছাড়া উপজেলাগুলোতে মোট ১২৫ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার 

এই বিভাগের আরও খবর