১০ অক্টোবর, ২০২১ ১৯:২১

যশোর বোর্ডের চেক জালিয়াতি, টাকা ফেরত দিতে যোগাযোগ করছে জালিয়াতচক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

যশোর বোর্ডের চেক জালিয়াতি, টাকা ফেরত দিতে যোগাযোগ করছে জালিয়াতচক্র

চেক জালিয়াতির মাধ্যমে যশোর শিক্ষা বোর্ডের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় রবিবার বোর্ড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। সকাল ১০টায় দুদক যশোর কার্যালয়ে গিয়ে এ অভিযোগ দাখিল করে বোর্ডের সচিব এএমএইচ আলী আর রেজা। এরপর বেলা ১২টার দিকে দুদক কর্মকর্তারা বোর্ডে গিয়ে তদন্ত শুরু করেন। 

এদিকে গত বৃহস্পতিবার চেক জালিয়াতির এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের হিসাব সহকারী আব্দুস সালাম। চেক জালিয়াতির ঘটনায় সন্দেহের তীর আপাতত আব্দুস সালাম ও বাইরের দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকেই রয়েছে।
তবে এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব এএমএইচ আলী আর রেজা। 

রবিবার সকালে দুদকে অভিযোগ দাখিলের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপাতত আমরা জানতে পেরেছি বোর্ডের একজন জড়িত। সংখ্যাটা বাড়তেও পারে। এর সাথে হিসাব বিভাগের সহকারী আব্দুস সালাম জড়িত, বাইরের দুইটা প্রতিষ্ঠানও আছে। সেই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দুদকে জমা দিয়েছি। তারা বিষয়টি তদন্তের জন্য বোর্ডে যাবেন।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোল্লা আমীর হোসেন বলেন, ‘যাকে আমরা সন্দেহ করছি, গত সাত তারিখ থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আজও সে অফিসে আসেনি। তবে গোপনে একজনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য সে তৎপরতা চালাচ্ছে এবং ক্ষমা চাচ্ছে। যার মাধ্যমে সে যোগাযোগ করছে, তাকে বলেছি, আগে টাকা ফেরত দিক, ক্ষমার বিষয় পরে চিন্তা করবো।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বল এখন আইনের হাতে। তারা তদন্ত করবে এবং আদালতের মাধ্যমেই বিষয়টার সুরাহা হবে’। 

চলতি অর্থবছরে যশোর শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য আয়কর ও ভ্যাট বাবদ মোট ১০ হাজার ৩৬ টাকার ৯টি চেক ইস্যু করে। এ ৯টি চেক সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি। বরং চেকগুলোর বিপরীতে বোর্ডের বাইরের দুটি প্রতিষ্ঠান ভেনাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং এবং শাহী লাল স্টোরের নামে বোর্ডের অ্যাকাউন্ট থেকে গত এক বছর ধরে আড়াই কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। 

সম্প্রতি বোর্ডের আভ্যন্তরীণ অডিটে বিষয়টি ধরা পড়লে অডিট টিম এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বোর্ডের সচিবকে চিঠি দেন। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর