৯০ মিনিটের খেলা শেষ, তখন চলছে যোগ করা সময়ের লড়াই। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে স্টিফেন এস্টাকিওর দারুণ এক গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক কানাডা। গর্জনে ফেটে পড়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের কানাডার সমর্থকরা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করে কানাডা। গতকাল রাতে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের ‘হয় জিত, নয় বাড়ি যাও’ মন্ত্রের লড়াই। গ্রুপ পর্ব শেষে নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ, রাউন্ড অব ৩২-এর প্রথম খেলায় মুখোমুখি হয় স্বাগতিক কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে লড়াই করতে নামে দুই দলই। তবে শেষ ষোলোতে যেতে জিততে হবে এক দেশকেই।
ম্যাচের শুরুতে বল দখলে আফ্রিকা এগিয়ে থাকলেও চাপ তৈরি করছিল কানাডা। একাধিকবার আক্রমণ করলেও গোল পায়নি তারা। দারুণ প্রতিহত করেন আফ্রিকার গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামস। গোলশূন্য সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতির পর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে আবার জমে উঠে নকআউট পর্বের প্রথম লড়াই। তবে ৬৪ মিনিটেও আবার সুযোগ পায় কানাডা। কিন্তু এবারও আফ্রিকাকে বাঁচিয়ে দেন গোলকিপার উইলিয়ামস। তবে শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জাল খোঁজে নেন স্টিফেন এস্টাকিওর। এরপর গর্জে ওঠেন কানাডার সমর্থকরা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠল ম্যাপলপাতার দেশটি। এর আগে কানাডা ১৯৮৬ ও ২০২২ সালের আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। তৃতীয়বারের চেষ্টায় প্রথমবারের মতো নকআউটে খেলার স্বাদ পায় কানাডিয়ানরা। এমনকি চলতি বিশ্বকাপে কাতারের বিপক্ষে বিশ্বমঞ্চে প্রথমবারের মতো জয় পায় তারা। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ছিল এটি চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ। এর আগে ১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০ সালে স্বাগতিক হিসেবে খেললেও গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। তবে চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউটে খেলার স্বাদ পায় ‘বাফানা বাফানা’রা।