শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৮ জুলাই, ২০১৯ ০০:০৩

ফ্যাটি লিভার ডিজিজ : করণীয়

ফ্যাটি লিভার ডিজিজ : করণীয়

ফ্যাটি লিভার কি : লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ সৃষ্টি হয়। লিভার কোষের শতকরা ৫ ভাগের বেশি কোষের মধ্যে চর্বি বিশেষকরে ট্রাইগ্লিসারাইজড জমা হলে ফ্যাটি লিভার সৃষ্টি হয়। এছাড়া অঞ্চল ভেদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ১০-২৪% পর্যন্ত হতে পারে।

ফ্যাটি লিভার দুই ধরনের 

১। অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার-সাধারণত পাশ্চাত্যে বেশি হয়।

২। নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার-আমাদের দেশে বেশি হয়।

ফ্যাটি লিভারের কারণ :

ডায়াবেটিস, শরীরের অত্যধিক স্থূলতা (মুটিয়ে যাওয়া), রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি ইত্যাদি কারণে ফ্যাটি লিভার বেশি হয়। এ ছাড়া জেনেটিক কারণেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে। কখনো কখনো পাতলা বা শীর্ণকায় লোকেরও ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ে। অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড ও কোমল পানীয়’র প্রতি আসক্তি ও খেলাধুলার সুযোগ না থাকার কারণে এখনকার দিনে অনেক বাচ্চাদেরও ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ছে।

ফ্যাটি লিভার হলে কী হতে পারে? ফ্যাটি লিভার অধিকাংশ ক্ষেত্রে (প্রায় ৮০ %) কোনো ক্ষতি করে না (Simple Fatty Liver)। কিন্তু লিভার কোষে চর্বি জমে যদি লিভারের প্রদাহ সৃষ্টি হয় (NASH), তাহলে শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে; এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারও হতে পারে।

উপসর্গ : ফ্যাটি লিভারের সাধারণত কোনো উপসর্গ থাকে না। রুটিন চেকআপ বা অন্য কোনো রোগের কারণে পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম করাতে গিয়ে ফ্যাটি লিভার ধরা পড়ে।

চিকিৎসা : সাধারণ ফ্যাটি লিভারের জন্য (Simple Fatty Liver) শুধু খাদ্যাভাস নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তন ও শারীরিক ব্যায়ামই যথেষ্ট। সঙ্গে নির্দিষ্ট কারণের চিকিৎসা যেমন-ডায়াবেটিস বা রক্তের অতিরিক্ত চর্বির চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু প্রদাহযুক্ত ফ্যাটি লিভার (NASH) হলে বা লিভার সিরোসিস হলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিশেষ চিকিৎসা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে অধিকাংশ ফ্যাটি লিভার সাধারণ ফ্যাটি লিভার হলেও, এই ফ্যাটি লিভারই আমাদের দেশে লিভার সিরোসিসের দ্বিতীয় প্রধান কারণ।

চঞ্চল কুমার ঘোষ, সহযোগী অধ্যাপক, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ

মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।


আপনার মন্তব্য