শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০৬

সিওপিডি নিয়ে কিছু কথা

অধ্যাপক ডা. ইকবাল হাসান মাহমুদ

সিওপিডি নিয়ে কিছু কথা

বিশ্বে মৃত্যুহারের অন্যতম একটি কারণ সিওপিডি। সিওপিডি একটি জটিল রোগ, যা জিনগত, আচরণগত ও পরিবেশগত কারণ, ধূমপান, পেশাগত দূষণ, বায়ুদূষণ এবং শৈশবে নিম্ন শ্বাসনালির সংক্রমণ দিয়ে প্রভাবিত হয়। এ ছাড়া পুষ্টি এবং নিম্ন আর্থ-সামাজিক অবস্থাও এর সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রায়ই রোগটি নির্ণয় করা হয় না এবং পরিণত অবস্থাতেই চিকিৎসা করা হয়। যদিও তরুণদের মাঝেও এটি একটি শারীরিক সমস্যা। সিওপিডি হওয়ার সবচেয়ে প্রধান কারণ ধূমপান। বিশেষভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে, প্রায়ই সিওপিডি এবং হাঁপানি একে অপরের সঙ্গে ভুলভাবে নির্ণয় করা হয়। সিওপিডি ও হাঁপানির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা প্রয়োজন। এ দুটি রোগের কারণ এবং প্রক্রিয়া ভিন্ন, চিকিৎসার ফলও ভিন্ন। এখন পর্যন্ত সিওপিডির প্রতিকার সম্ভব হয়নি। তবে এর অগ্রগতিকে ধীরসম্পন্ন করা যাবে এবং ক্ষতির পরিমাণও কমানো সম্ভব। সঠিক পথ্য, নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট ধরনের ব্যায়াম, রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য দৃঢ় মনোবল দিয়ে বেশির ভাগ রোগী তাদের ফুসফুসের কর্মক্ষমতা কিছুটা ফিরে পেতে পারেন। ফলে তাদের জীবনযাত্রার মান আগের তুলনায় উন্নততর হতে পারে।

সিওপিডি নির্ণয় : সিওপিডি নির্ণয়ের জন্য সতর্কতার সঙ্গে রোগীর ইতিহাস জানতে হবে, রোগীকে ক্লিনিক্যালি পরীক্ষা করতে হবে এবং সবশেষে ল্যাবরেটরিতে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। রোগীর ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধূমপান সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা। যেমন: কোনো বয়সে রোগী ধূমপান শুরু করেন? প্রতিদিন রোগী কী পরিমাণ ধূমপান করেন? তিনি ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন কি না? ছেড়ে দিলে তা কত দিন আগে? পরোক্ষ ধূমপানের কোনো ইতিহাস আছে কি না ইত্যাদি। রোগীর পরিবেশ ও কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। জানতে হবে রোগীর কাশি আছে কি না এবং থাকলে কাশির সঙ্গে কফ বের হয় কি না? বের হলে তা কত দিন ধরে? কাশির সঙ্গে রক্ত বের হয় কি না? রোগীর শ্বাসকষ্ট আছে কি না? রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে বাঁশির মতো আওয়াজ হয় কি না? রোগী প্রায়ই শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হন কি না?

কোনো মানুষের সঙ্গে জন্মগতভাবেই সিওপিডি রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণের তুলনায় একটু বেশি থাকে। এ অপরিবর্তনীয় ঝুঁকিগুলোকে আমরা হোস্ট ফ্যাক্টর বলি। যেমন, জেনেটিক কোনো সমস্যা। যাদের শ্বাসতন্ত্র হাইপার রেসপনসিড। ফুসফুসের গঠন ও বৃদ্ধিজনিত কোনো সমস্যা থাকে যাদের। মহিলাদের তুলনায় পুরুষের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়াও পরিবেশগতভাবে বিভিন্ন উপাদানের সংস্পর্শ সিওপিডিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন- ১. ধূমপান, ২. কর্মক্ষেত্রে ধুলা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ৩. বায়ুদূষণ ও ৪. সংক্রমণ ইত্যাদি।

 

সিওপিডি ও হাঁপানির মধ্যে পার্থক্য : সিওপিডি ও হাঁপানির মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে। আসলে কোনো রোগী সিওপিডি আক্রান্ত কি না তা নির্ণয় করার সময় রোগীর হাঁপানি আছে কি না, তা পার্থক্য করে নিতে হবে। হাঁপানি এবং সিওপিডির মধ্যে পার্থক্য করা খুবই প্রয়োজনীয়। সিওপিডি সাধারণত মধ্য বয়স্কদের রোগ, ধূমপানের ইতিহাস এখানে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে কাজ করে। এখানে অ্যালার্জি বা পারিবারিক ইতিহাসের তেমন কোনো ভূমিকা নেই। প্রচুর কফ হয় এ রোগে। শ্বাসকার্য ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যেতে থাকে। ব্রংকোডাইলেটর ওষুধ সন্তোষজনক নয় এবং সাধারণত এ রোগে ফুসফুসের প্যারেনকাইমা বিনষ্ট হয়। অপরদিকে হাঁপানি যে কোনো বয়সে হতে পারে। ধূমপান এ রোগের কারণ নয়, তবে ধূমপানে হাঁপানির উপসর্গ প্রকট হতে পারে। রোগীর রাইনাইটিস এবং একজিমা আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকে। এখানে কফ খুবই কম উৎপাদন হয়। ব্রংকোডাইলেটরে এ রোগীর রেসপন্স খুবই ভালো এবং হাঁপানিতে ফুসফুসের প্যারেনকাইমা বিনষ্ট হয় না। তাই আমাদের সচেতন হতে হবে।

লেখক : বক্ষ্যব্যাধি বিশেষজ্ঞ, ইকবাল চেস্ট

সেন্টার, মগবাজার ওয়্যারলেস, ঢাকা।


আপনার মন্তব্য

close