দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কৃষি বিভাগের ব্লক সুপারভাইজার (বিএস) উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল বিএস কোয়ার্টার। আশির দশকে নির্মিত এসব কোয়ার্টার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। এখন সেখানে নিয়মিত বসে মাদকের আসর।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে গ্রামপর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে বীজ সরবরাহের লক্ষ্যে পৌর এলাকাসহ ফুলবাড়ী উপজেলায় সাতটি বীজাগার নির্মাণ করা হয়। এগুলো গড়ে উঠেছিল নির্জন স্থানে। তৎকালীন কৃষি বিভাগের ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত ব্লক সুপারভাইজাররা (বিএস) এসব বীজাগার থেকে বিভিন্ন ফসলের বীজ সরবরাহ করতেন।
দেশ স্বাধীনের পর সরকার কৃষকের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ১৯৮০ সালে বীজাগারগুলোকে সংস্কার করে দুজন বিএসকে পরিবার নিয়ে থাকার উপযোগী ভবন করা হয়। ভবনগুলো নির্মাণের পর ৫০ টাকা ভাড়ায় বরাদ্দ দেওয়া হয় বিএসদের। এরপর কয়েকজন বিএস তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে কোয়ার্টারগুলোতে বসবাস শুরু করেন। কিছুদিনের মধ্যে চোর-ডাকাতের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে কোয়ার্টার ছেড়ে নিরাপদ স্থানে বসবাস করে তারা দায়িত্ব পালন করেন। তখন থেকে শুধু পৌরসভার বিএস কোয়ার্টার ছাড়া অন্য ছয়টির একটিতেও কেউ থাকেন না। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা কোয়ার্টারগুলোর দরজা, জানালা, ইটসহ অন্য উপকরণ খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এখন পড়ে আছে ভগ্নদশায়। পরিণত হয়েছে মাদকসেবী আড্ডাখানায়।
ফুলবাড়ী পৌর এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, তিনি যে বিএস কোয়ার্টারে থাকেন সেটিও বসবাসের অনুপযোগী। ইতোমধ্যে কোয়ার্টারের প্লাস্টার খসে পড়েছে। খুলে পড়ছে ইটসহ খোয়া। এরপরও কাজের তাগিদে বসবাস করতে হচ্ছে। শিবনগর ইউপির রাজারামপুরের বাসিন্দা বিপুল চৌধুরী বলেন, এখানকার বিএস কোয়ার্টারটি দরজা, জানালা কাঠ ও রড খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, বের হয়েছে ছাদের রড। কোয়ার্টারের ভিতরে জন্মেছে ঝোপঝাড়। তা ছাড়া জায়গাটি একেবারে নির্জন ও জনশূন্য। খাজাপুর গ্রামের কৃষক আবদুর রহমান বলেন, আগে খাজাপুর বিএস কোয়ার্টার ছিল। সেটি এখন পরিত্যক্ত। কেউ এখানে থাকেন না, থাকার উপযোগীও নয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ইউনিয়নে বসবাস করলে কৃষক আরও বেশি পরামর্শ ও সহযোগিতা পেতেন।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আবদুলাহ্ মোস্তাকিন বলেন, বিএস কোয়ার্টারগুলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।