কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার প্রায় দেড় শ বছরের ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতু। স্টিলের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় গতকাল সকাল থেকে সেতুটি দিয়ে সব ধরনের ভারী যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। দুই প্রান্তে দেখা গেছে বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সেতুটির বিভিন্ন স্থানে পাটাতন ভেঙে গেছে। খুলে গেছে লোহার প্লেট (ট্যাংক জ্যাম)। তবু প্রতিদিন শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে এ সেতুতে চলাচল করত। জানা যায়, ব্রিটিশ ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গুয়াটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর সোনাহাট রেল সেতু নির্মিত হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ধ্বংস করা হয় সেতুর একাংশ। স্বাধীনতার পর সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে সেতুটি সংস্কার করে চালু করা হয় সড়ক যোগাযোগ।
নির্মাণকালে সেতুটির আয়ু নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০০ বছর। সে হিসেবে প্রায় ৪০ বছর আগে মেয়াদ শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেতুটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। সেতুটি অচল হলে সোনাহাট স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
সোনাহাট সেতু এলাকার ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও নুর ইসলাম বলেন, পাথরবোঝাই ট্রাক চলার সময় পুরো সেতু থরথর করে কেঁপে ওঠে। তাছাড়া সেতুটি এতটাই সরু যে, একটি ট্রাক চলার সময় অন্য যানবাহন যাওয়ার সুযোগ থাকে না। এতে প্রায়ই দুই পাশে যানজট সৃষ্টি হয়।
সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আবু হেনা মাসুম বলেন, প্রায়ই সেতুর পাটাতন ভেঙে যায়। পরে সড়ক বিভাগ তা মেরামত করে। গুরুত্বপূর্ণ এ সেতু দিয়ে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ হলে স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হবে। সরকার হারাবে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, সেতুটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পণ্য বহনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুড়িগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সেতুটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংস্কার শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।