প্রধানমন্ত্রীর তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল করেছে ‘তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ’। বুধবার সন্ধ্যায় তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলার বিভিন্ন স্থানে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মশাল প্রজ্বালনের মাধ্যমে আলোর মিছিল বের করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে একই সময়ে গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তাতীরবর্তী আট স্থানে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। নীলফামারীর জলঢাকার শৈলমারী ও বানপাড়া; কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বুড়িরহাট ও উলিপুরের হোকোডাঙা; রংপুরের গঙ্গাচড়া এবং তিস্তাতীরবর্তী অন্যান্য এলাকায়ও গণসমাবেশ ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। তবে তিস্তাপারের মানুষ আর নতুন প্রতিশ্রুতি নয়, প্রকল্পটির দ্রুত একনেক অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি দেখতে চায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’ সমাবেশ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত একনেক অনুমোদন ও সময়বদ্ধ বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণা; অভিজ্ঞ নদী প্রকৌশলী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং তিস্তা আন্দোলনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে ‘তিস্তা কর্তৃপক্ষ’ গঠন; দক্ষ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ; সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘তিস্তা বন্ড’ চালু; ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।