আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫০০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। এর মধ্যে ১৯০টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩১০টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো প্রশাসনের বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
জানা গেছে, বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষ ভোটারের চেয়ে ২০ হাজার ১৫৬ জন বেশি।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণে জেলায় পাঁচ হাজার ৪৭৮টি ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অস্থায়ী ভোটকক্ষ নির্মাণ করা হচ্ছে ৩৩০টি।
জেলায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা শাজাহানপুরে। এ উপজেলায় ৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে গাবতলী উপজেলায়। যেখানে মাত্র একটি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এছাড়া, কাহালুতে ৩১টি, শেরপুরে ৩০টি, শিবগঞ্জে ২৬টি এবং আদমদীঘিতে ১৬টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। বগুড়া সদর উপজেলায় ১৫০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তায় ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান জানান, ৫০০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে আগেও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া যাতায়াতের অসুবিধা এবং চর এলাকার ভোটকেন্দ্রগুলোকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে এসব কেন্দ্রে বাড়তি টহল ও নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম বলেন, বগুড়ায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে। ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।
বিডি-প্রতিদিন/এমই