গণতান্ত্রিক উত্তরণে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। এ জন্য দলনিরপেক্ষ, দক্ষ ও সাহসী ব্যক্তিদের নির্বাচনী দায়িত্বে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার যে গণআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাষ্ট্র সংস্কার ও রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন জরুরি।
সোমবার বেলা ১১টায় মোংলার শ্রমিক সংঘের মাঠে বাগেরহাট–৩ (মোংলা–রামপাল) আসনের সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের নিয়ে ‘জনগণের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক মোংলা উপজেলা কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন মোংলা উপজেলা সভাপতি ফ্রান্সিস সুদান হালদার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ শেখ জিল্লুর রহমান এবং জাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং সুজন খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজন মোংলা উপজেলা সম্পাদক মো. নূর আলম শেখ।
অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেন। পরে উপস্থিত নাগরিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তারা।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হলে জোরপূর্বক অন্যের জমিতে চিংড়ি চাষ করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বিএনপি ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে—‘ধর্ম যার যার, দেশ সবার।’
আরেক প্রশ্নের উত্তরে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সৎ লোকের শাসন ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, শুধু সুষ্ঠু নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন গণতান্ত্রিক উত্তরণ। এ জন্য আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার এবং রাজনৈতিক মূল্যবোধের পরিবর্তন জরুরি।
মাসুদুর রহমান রঞ্জু বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মধ্যে আশা তৈরি হয়েছে—দেশে আর যেন কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। নির্বাচন ব্যবস্থা পরিশুদ্ধ ও গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে—এটাই মানুষের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রার্থীরা একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থী নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোটারদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন