অধ্যাপক সুধীর সেন ও সমাজসেবী সুধা সেনের মেয়ে কথাসাহিত্যিক সুনন্দা কবীর। সুনন্দা কবীর বাবা-মায়ের নামে ভিক্টোরিয়া কলেজ সুধীর-সুধা সাহিত্য পুরস্কার তহবিল নামে একটি বাৎসরিক বৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন। তহবিল গঠনের জন্য সুনন্দা কবীর এককালীন ৪ লাখ টাকা প্রদান করেন। সুনন্দা কবীর বলেন, আমি নিজেও ভিক্টোরিয়ার ছাত্রী। বাবা ও মায়ের স্মৃতির সম্মানে এ বৃত্তি চালু করেছি। আমার সীমিত সামর্র্থ্য থেকে এই প্রচেষ্টা।
সুধীর সেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের বাংলার খ্যাতিমান অধ্যাপক। অবসর নিয়েছেন ১৯৫৯ সালে। অবসরের প্রায় ৭০ বছর পর তিনি সম্প্রতি ফিরেছেন প্রিয় কর্মস্থলে। অবশ্য শরীরে নয়; স্মৃতিতে। সুধীর সেন শান্তি নিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় ছাত্র ছিলেন। ভিক্টোরিয়া কলেজে যোগদানের আবেদনপত্রে যুক্ত করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি প্রত্যয়নপত্র। সেখানে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, আমার সুধীর বাংলা জানে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, সুধীর চন্দ্র সেনের বাবা সত্যেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস। তাদের বাসা ছিল কুমিল্লা নগরীর তালপুকুরপাড় এলাকায়। ১৯২৬ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কুমিল্লায় এসেছিলেন। কুমিল্লা এলে কবিকে ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনার মানপত্রটি লিখেছিলেন সুধীর চন্দ্র সেন। অধ্যাপক আবদুল হাই ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগের প্রধান। তিনি সুধীর চন্দ্র সেনকে নিয়ে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে এক বছর শিক্ষকতা করেন তিনি। এরপর ভিক্টোরিয়ার মায়ায় আবার কুমিল্লায় ফিরে আসেন। তাঁর মতো স্ত্রী সুধা সেনও ভিক্টোরিয়ায় শিক্ষকতা করেন। তিনি একজন সাহিত্যিক ও সমাজসেবী মহীয়সী নারী ছিলেন।
কলেজ সূত্র জানায়, অধ্যাপক সুধীর সেন ও সমাজসেবী সুধা সেনের মেয়ে কথাসাহিত্যিক সুনন্দা কবীর। সুনন্দা কবীর বাবা-মায়ের নামে ভিক্টোরিয়া কলেজ সুধীর-সুধা সাহিত্য পুরস্কার তহবিল নামে একটি বাৎসরিক বৃত্তির ব্যবস্থা করেন। তহবিল গঠনের জন্য সুনন্দা কবীর এককালীন ৪ লাখ টাকা প্রদান করেন। এ সময় ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঞা, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মশিউর রহমান কাজল, ট্রাস্টি সুনন্দা কবীরের প্রতিনিধি আহসানুল কবীর, ট্রাস্ট সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ ঈমাম হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সুধীর সেনের মেয়ে বলেন, আমি নিজেও ভিক্টোরিয়ার ছাত্রী। ভিক্টারিয়ার ছাত্র, শিক্ষক একটা পরিবার। বাংলা বিভাগের জন্য কোনো বৃত্তি চালু নেই। তাই বাবা ও মায়ের স্মৃতির সম্মানে এই বৃত্তি চালু করেছি। আমার সীমিত সামর্র্থ্য থেকে এই প্রচেষ্টা। আশা করছি এক দিন এই উদ্যোগের সঙ্গে অন্যরা যুক্ত হলে এর কলেবর আরও বৃদ্ধি পাবে। ম্যানেজিং ট্রাস্টির প্রতিনিধি ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর বলেন, অধ্যাপক সুধীর সেন ও সুধা সেনের মেয়ে সুনন্দা কবীরকে ভিক্টোরিয়া কলেজে বৃত্তি চালুর এ মহৎ উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাই। এই ট্রাস্টে ম্যানেজিং ট্রাস্টির প্রতিনিধি হিসেবে সম্পৃক্ত হতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আশা করছি এই বৃত্তি কুমিল্লার শিক্ষা সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখবে। কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাশার ভূঁঞা বলেন, অধ্যাপক সুধীর সেন বাংলার নামকরা অধ্যাপক ছিলেন। তিনি এখানে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। তাঁর স্ত্রী সুধা সেনও এখানে শিক্ষকতা করেন। তাঁদের পরিবার থেকে বাংলা বিভাগের জন্য বৃত্তি চালু নিঃসন্দেহে চমৎকার উদ্যোগ।