শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ১৮:৪৭
আপডেট : ২৭ নভেম্বর, ২০২০ ২২:০৫
প্রিন্ট করুন printer

বিপাকে মমতার তৃণমূল, পদত্যাগ শুভেন্দুর, বিজেপিতে যোগদানের পথে মিহির

কলকাতা প্রতিনিধি:

বিপাকে মমতার তৃণমূল, পদত্যাগ শুভেন্দুর, বিজেপিতে যোগদানের পথে মিহির
ফাইল ছবি

আগামী বছরের গোড়ার দিকে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে বড় ধাক্কা রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরে। তৃণমূলের সাথে সম্পর্কের কফিনে শেষ পেরেকটা পুঁতেই দিলেন তৃণমূলের দাপুটে নেতা, নন্দীগ্রামের বিধায়ক, ক্যাবিনেট মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সেচ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব সামলাতেন শুভেন্দু। কিন্তু শুক্রবার ওই দুইটি মন্ত্রণালয় থেকেই পদত্যাগ করেন ৪৯ বছর বয়সী শুভেন্দু। তিনি তার পদত্যাগপত্র ফ্যাক্স করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যনার্জিকে পাঠিয়ে দেন। পরে ইমেল মারফত সেই পদত্যাগপত্র যায় রাজ্যপাল জগদীপ ধনকারের কাছে। রাজ্যপাল সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। 

মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো পদত্যাগ পত্রে শুভেন্দু জানান ‘মন্ত্রিত্ব থেকে আমি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে চিঠি দিচ্ছি। এই ইস্তফাপত্র অবিলম্বে গ্রহণ করা হোক। রাজ্যের মানুষের সেবা করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি।’

তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও এখনই দলের বিধায়ক ও প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করছেন না শুভেন্দু। যদিও বৃহস্পতিবারই ‘হুগলী রিভার ব্রিজ কমিশন’ (এইচআরবিসি)-এর চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন শুভেন্দু। ‘হলদিয়া ডেভলপমেন্ট অথরিটি’র মতো একটি স্বশাসিত সংস্থার চেয়ারম্যান থেকেও পদত্যগ করেন তিনি। মন্ত্রী হিসাবে তিনি ‘জেড’ ক্যাটাগরির যে নিরাপত্তা পেতেন তাও প্রত্যাহার করতে চেয়ে রাজ্য সরকারকে জানিয়েছেন শুভেন্দু। 

নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে শুরু করে বহু আন্দোলনে মমতার সাথী ছিলেন তারই একসময়ের অত্যন্ত কাছের ও বিশ্বস্ত সেনাপতি বলে পরিচিত শুভেন্দু। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে মমতা ও দলের সাথে দূরত্ব বাড়তে থাকে শুভেন্দুর। বাড়তে থাকে জল্পনাও। সংগঠনের শীর্ষ পদাধিকারীদের একাংশের কাজকর্মে যে তিনি ক্ষুব্ধ তা আর গোপন নেই। এমনকি তৃণমূলের মমতার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জির নেতৃত্ব নিয়েও দলের ঘনিষ্টদের কাছে নিজের ক্ষোভ ব্যক্ত করেন তিনি। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক জনসভায় উপস্থিত থাকলেও দলের পতাকা ব্যবহার করেননি। রাজ্যের একাধিক জায়গায় ‘আমরা দাদার অনুগামী’ পোস্টার, ফ্লেক্স পড়লেও তাতে মমতা ব্যনার্জির ছবি ছিল না। যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেসও। এমতাবস্থায় শুভেন্দুর মান ভাঙাতে তৃণমূলের তরফেও কম প্রচেষ্টা করা হয়নি। মমতার নির্দেশে তৃণমূলের সিনিয়র নেতা ও সাংসদ সৌগত রায় নিজে উদ্যোগ নেন কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি।

এদিকে দলের সাথে শুভেন্দুর দূরত্ব বাড়তে থাকায় বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতারাও তাকে তাদের দলে স্বাগত জানিয়েছিলেন। 
আর তাই শুভেন্দুর পদত্যাগের পরই রাজ্যটির বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়ে দিয়েছেন যে এটা প্রত্যাশিতই ছিল। কারণ কোন ভদ্রলোক তৃণমূলে থাকতে পারে না। এদিন দুপুরে উত্তরচব্বিশ পরগনা জেলার গোপালনগরে দিলীপ ঘোষ বলেন ‘কেবল শুভেন্দুই নয়, তৃণমূল থেকে অনেক নেতাই আগামীদিনে এভাবে চলে আসবেন। কয়েকজন সাংসদ ও বিধায়ক ইতিমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বাকী নেতারাও চলে আসবেন। কারণ ওই দলে কোন ভদ্রলোক থাকতে পারে না। তৃণমূলে কোন গণতন্ত্র নেই, স্বাধীনতা নেই, সম্মান নেই। এটার মধ্যে দিয়েই প্রমাণ হল যে তৃণমূলের শেষের শুরু হয়ে গেছে।’ যারা পশ্চিমবঙ্গের পরিবর্তনের জন্য লড়াই করতে চান তাদের সকলকে বিজেপিতে আসার আহ্বানও জানান মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। 

এদিকে শুভেন্দু যখন রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন ঠিক তখনই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন কোচবিহারের বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক মিহির গোস্বামী। শুক্রবার দুপুরে কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিকের সাথে দিল্লিতে পা রাখেন মিহির। সূত্রে খবর এদিন সন্ধ্যাতেই গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে পারেন মিহির গোস্বামী। সেক্ষেত্রে আগামী বছরের বিধানসভার নির্বাচনের আগে দলের মধ্যে বাড়তে থাকা এই অসন্তোষ ও দল বদলের ঘটনায় মমতার দল যে অস্বস্তিতে পড়বে সেকথা বলাই যায়।  

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২১:২০
প্রিন্ট করুন printer

‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান শুনেই রেগে ডায়াস ছাড়লেন মমতা!

দীপক দেবনাথ, কলকাতা:

‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান শুনেই রেগে ডায়াস ছাড়লেন মমতা!

সরকারি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে অপমান করা হয়েছে-এই অভিযোগ তুলে কোন বক্তব্যই রাখলেন না পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। আজ ভারতের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্মবার্ষির্কী উপলক্ষ্যে বিকালে কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে একটি অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। 

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রহ্লাদ সিং প্যাটেল, কেন্দ্রীয় বন, পরিবেশ দফতরের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার। 

অনুষ্ঠানে প্রহ্লাদ সিং প্যাটেলের বক্তব্য শেষেই সঞ্চালক মমতাকে তার বক্তব্য রাখার জন্য আহ্বান জানান। কিন্তু মমতার নাম ঘোষণার পরই দর্শক আসন থেকে হাল্কা গুঞ্জন ও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ভেসে আসে। আর তাতেই মেজাজ হারান মমতা। 

পরে ডায়াসে দাঁড়িয়ে তার তীব্র প্রতিবাদ করেন মমতা। তিনি বলেন ‘আমার মনে হয় সরকারি অনুষ্ঠানের একটা ডিগনিটি (মর্যাদা) থাকা উচিত। এটা সরকারি অনুষ্ঠান, কোন একটি রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠান নয়। এটা সব রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের অনুষ্ঠান। আমি প্রধানমন্ত্রী ও সংস্কৃতি মন্ত্রীর কাছে খুবই কৃতজ্ঞ যে আপনারা কলকাতায় নেতাজীর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। কিন্তু কাউকে আমন্ত্রণ জানিয়ে তাকে বেইজ্জত করা আপনাদের শোভা পায় না (লেকিন কিসি কো আমন্ত্রিত কর কে বেইজ্জত করনা আপ লোগো কো শোভা নেহি দেতা)। এই ঘটনার প্রতিবাদেই আমি আর কিছু বলতে চাই না। জয় হিন্দ, জয় বাংলা।’ এরপরই ডায়াস ছেড়ে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে নিজের আসনে গিয়ে বসে পড়েন। তবে তার পরও বেশ কিছুটা বিধ্বস্ত দেখায় মমতাকে। 

এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ট্যুইট করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিনেত্রী নুসরাত জাহান রুহি। তিনি লেখেন ‘ভাররেতর অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্ম বাষির্কী উদযাপনের মতো একটি সরকারি অনুষ্ঠান থেকে কোন রাজনৈতিক বা ধর্মীয় স্লোগানের কঠোর নিন্দা জানাই।’ 

বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:১৬
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:৪৯
প্রিন্ট করুন printer

কলকাতাকে রাজধানী করা হোক : মমতা

দীপক দেবনাথ, কলকাতা :

কলকাতাকে রাজধানী করা হোক : মমতা
ফাইল ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি  প্রশ্ন তুললেন, ‘দেশে (ভারতে) কেন একটা রাজধানী? দেশের চার প্রান্তে চারটি রাজধানী হোক। ভারতের দক্ষিণ, উত্তর, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব, এই চারটি প্রান্তে চারটি রাজধানী হোক।'' নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উদ্‍যাপন উপলক্ষ্যে জয়ন্তীর মঞ্চ থেকে আজ এই দাবি যেআলোড়ন সৃষ্টিকারী, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কলকাতাকে ভারতের রাজধানী করার পক্ষে কিছু তথ্য তুলে ধরে মমতা বলেন, ‘কলকাতা একদিন ভারতের রাজধানী ছিল। এই কলকাতা থেকে ব্রিটিশরা ভারত চালাত। এমনি এমনি কলকাতাকে নির্বাচিত করা হয়নি। তবে আজ কলকাতা কেন ভারতের একটা রাজধানী তবে না? আমি তো মনে করি ভারতের একটা রাজধানী কলকাতা হতে হবে। তার কারণ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্মদাতা ছিল বাংলা, বিহারসহ এই সব জায়গায়।’

তিনি বলেন, ‘কলকাতা বেলেঘাটা গান্ধী ভবনে এসে জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধী আন্দোলন করতেন। নবজাগরণ শুরু হয়েছে বাংলা থেকে। বিধবা বিবাহ প্রচলন, বাল্য বিবাহ রোধ, সতীদাহ প্রথা নিবারণ- প্রতিটি সামাজিক সংস্কারের জন্ম হয়েছে বাংলার মাটি থেকে। তাই এই বাংলা কোন অবহেলা সহ্য করবে না। বাংলা কখনও মাথা নিচু করতে জানে না। এই বাংলা মাথা উঁচু করে চলতে জানে। নেতাজির নাম বললেই আমার হৃদয়ে একটা আবেগের জায়গায় জন্ম নেয়।’

শনিবার কলকাতার শ্যামবাজার মোড় থেকে রেড রোড পর্যন্ত একটি মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী। মিছিল শেষে নিজের বক্তৃতায় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজি তথা বাংলার আরও অনেক ভূমিকা তুলে ধরেন মমতা। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং নবজাগরণের সূচনাস্থল যে বাংলাই, সেটাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

এরপরই ‘গান্ধীবাদ-সুভাষবাদ জিন্দাবাদ’, ‘সুভাষ বোস জিন্দাবাদ’ স্লোগান তোলেন মমতা। এসময় নেতাজীর জন্মদিনকে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করার আরও একবার দাবি তোলেন মমতা। পাশাপাশি শিক্ষা দফতরকে নির্দেশ দেন, তরুণের স্বপ্ন এবং সবুজের অভিযান এই দুটো বই যেন কম্পালসারি করা হোক। 

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:১৮
আপডেট : ২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ১১:৪৫
প্রিন্ট করুন printer

মৃত ব্যক্তির শুক্রানু নিয়ে ঐতিহাসিক রায় কলকাতা হাইকোর্টের

অনলাইন ডেস্ক

মৃত ব্যক্তির শুক্রানু নিয়ে ঐতিহাসিক রায় কলকাতা হাইকোর্টের

মৃত ব্যক্তির শুক্রানু নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিলেন কলকাতা হাইকোর্ট। আর তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে সেখানকার সমাজে। পুত্রের পিতৃত্বের অধিকারে কোনও দাবি থাকতে পারে না বাবার। 

শুক্রবার এক থ্যালাসেমিয়া রোগীর পিতৃত্বের অধিকার নিয়ে এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। 

রায়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য বলেন, “কোনও মৃত ব্যক্তির বীর্যের ওপর সবার প্রথম অধিকার তার স্ত্রীর। আর কারও নয়। কারণ সন্তান ধারণের পরবর্তী সিদ্ধান্ত তার কাঁধেই বর্তায়।”

আদালত সূত্রের খবর, সম্প্রতি এক ব্যক্তি তার মৃত পুত্রের সংরক্ষিত থাকা বীর্যের ওপর অধিকার জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘদিন আগেই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ওই ব্যক্তি দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে জীবিত অবস্থায় তিনি তার বংশবৃদ্ধির জন্য বীর্য সংরক্ষণে সায় দেন। পরে তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে সেই মৃত ব্যক্তির পিতৃত্বের অধিকার নিয়েই টানাপোড়েন শুরু হয়। সেই মামলার শুনানিতেই এই ঐতিহাসিক রায় দিতে দেখা যায় কলকাতা হাইকোর্টকে।

কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানান, সংরক্ষিত বীর্য গর্ভধারণের জন্য মৃতের স্ত্রী বা অন্য কাউকে দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু তার জন্য সর্বাগ্রে মৃতের স্ত্রীর অনুমতি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাবা–ছেলের সম্পর্কের জোরে মৃত ব্যক্তির পিতৃত্বের অধিকারে কোনও রূপ হস্তক্ষেপ করতে পারে না তার পরিবার। রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় সংবিধানের ১২ নম্বর অনুচ্ছেদের উপরেও বিশেষভাবে জোর দিতে দেখা যায় বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যকে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

বিডি প্রতিদিন/কালাম


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ২০:৪৩
প্রিন্ট করুন printer

বৈশালীকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার

অনলাইন ডেস্ক

বৈশালীকে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার

বৈশালী ডালমিয়াকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে একাধিকবার মন্তব্য করেছেন তিনি। দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় তিনি মুখ খুলেছিলেন।

আজ শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী অরূপ রায়ের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ আনেন তিনি। পরে সন্ধ্যার পরই দল থেকে বহিষ্কার করা হল বালির এই বিধায়ককে। তবে দলের অভিযোগ মানতে নারাজ বৈশালী। তার ভাষ্য, ‘কাটমানি নিতে না করেছিলাম, অবৈধ নির্মাণের বিরোধিতা করেছিলাম। এটাই কি আমার দলবিরোধী কাজ? 

‘এ কথাগুলো তুলে ধরা যদি বেইমানি হয়, তাহলে আমি বেইমান। তবু মানুষের পাশ থেকে আমি সরব না। মানুষের জন্য আমি কাজ করব’ বলেও তিনি ঘোষণা দেন। এছাড়া বহিষ্কারের পরও মন্ত্রী অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। বৈশালী বলেন, বহিষ্কারে আমার কিছু যায় আসে না। তবে দলের মধ্যে যে উইপোকা ছিল, তা রয়েই গেল।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ১৮:২২
প্রিন্ট করুন printer

মমতার মন্ত্রিসভা থেকে এবার বনমন্ত্রীর পদত্যাগ

কলকাতা প্রতিনিধি:

মমতার মন্ত্রিসভা থেকে এবার বনমন্ত্রীর পদত্যাগ

অবশেষে শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন বনমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি। তবে মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও এখনই দল অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস’এর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন না তিনি। 

বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্য সরকার ও রাজ্যটির ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের দলের কাজকর্ম নিয়ে বিক্ষুদ্ধ ছিলেন রাজীব। এমনকি বেশ কয়েকটি ক্যাবিনেট বৈঠকেও তাকে অনুপস্থিত থাকতে দেখা গেছে। 

সাম্প্রতিক কালে একাধিক ইস্যুতে বেসুরো গাইছিলেন রাজীব। কয়েকদিন আগে ফেসবুক লাইভে এসেও রাজীব বলেছিলেন দলের কয়েকটি সিদ্ধান্তে তিনি মনক্ষুণ্ণ, তাকে স্বাভাকিবাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দলের মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও সরব হন তিনি। ফলে জল্পনা ছিলই, তবে কি তিনিও শুভেন্দু অধিকারীর মতোই তৃণমূল চেলে বিজেপিতে নাম লেখাবেন। 

রাজীবের অসন্তোষ ও ক্ষোভ নিয়ে তৃণমূলও ওয়াকিবহল ছিল। রাজীবকে বোঝাতে দলের মহাসচিব ও সিনিয়র মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি কয়েকবার ফোনেও কথা বলেন, দুই জনের মধ্যে বৈঠকও হয়। কিন্তু সমাধান সূত্র বের হয়নি। 
নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে এদিনই মমতা ব্যনার্জির কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠান রাজীব। সেখানে তিনি লেখেন ‘রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করতে পারার সুযোগ পেয়ে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। আমাকে এই সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশও করছি।’ মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যপাল জগদীপ ধনকারের কাছে ইস্তফা পত্রের একটি প্রতিলিপ পাঠান রাজীব। 

নিজের ইস্তফা নিয়ে এদিন বিকালে রাজভবনের সামনে সাংবাদিকদের সামনে রাজীব বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমাকে যে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন আমি চেষ্টা করেছি রাজ্যের মানুষের স্বার্থে নিষ্ঠার সাথে সেই দায়িত্বপালন করতে। আড়াই বছর আগে আমাকে সেচ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থাকা কালীন সময়ে আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যেটা আমি টেলিভিশনের মাধ্যমে জানতে পারি। যদিও মুখ্যমন্ত্রী কাকে কোন  মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেবেন তা সম্পূর্ণ তার ব্যাপার। কিন্তু একজন সহকর্মী হিসাবে আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এই আশা করেছিলাম যে সৌজন্যতার খাতিরে আমাকে সেটা জানানো হবে। কিন্তু টিভির পর্দায় আমাকে জানতে হয়েছিল যে আমার দফতর পরিবর্তন করা হয়েছে। তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আমি মন্তিত্ব থেকে পদত্যাগ করবো এবং একজন দলীয় কর্মী হিসাবে কাজ করবো।’ তিনি আরও জানান ‘বিগত কয়েকদিন আমার কয়েকজন সহকর্মীর কথা আমাকে অত্যন্ত আঘাত করেছে, মর্মাহত করেছে, আমি বেদনাগ্রস্থ হয়েছি। আমি মানসিক দ্বন্দ্বে ছিলাম। এই ক্ষত আমার মনে ছাপ ফেলেছে। তাই আজ এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’ 

তবে সূত্রে খবর, এখনই তৃণমূল কংগ্রেস না ছাড়লেও কয়েকদিনের মধ্যেই দলের সদস্যপদও ছেড়ে দিতে পারেন রাজীব। তারপর বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। 

এদিকে রাজীবের ইস্তফা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন ধরেই ক্যাবিনেট বৈঠকে আসছিলেন না। উল্টে ফেসবুক লাইভে গিয়ে দলের বিরুদ্ধে কথা বলছিলেন। দলের তরফে ওকে বোঝাবার নানা চেষ্টা হয়েছে। পার্থ চ্যাটার্জিও তার সাথে বহুবার কথা বলেছেন। কিন্তু উনি না বুঝলে কি আর করা যাবে? ওর বিরুদ্ধে দল হয়তো ব্যবস্থা নিতো কিন্তু তার আগেই উনি পদত্যাগ করেছেন, তাতে ভালোই হয়েছে।’ রাজীবের পদত্যাগের ফলে দলে কোন প্রভাব ফেলবে না বলেও দাবি দমদমের তৃণমূল সাংসদের। সৌগত রায় বলেন ‘রাজীব একজন (এমএলএ) বিধায়ক ছিলেন মাত্র। এর বেশি কিছু নয়। তিনি মন্ত্রিত্বে থেকেও কোনও কাজ করছিলেন না।’ 

অন্যদিকে বিজেপিতে স্বাগত জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি বলেন, ‘রাজীব ব্যনার্জি মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন ঠিকই কিন্তু এখনও তৃণমূলেই আছেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত উনি দল ছাড়ছেন, আমরা কিছু করতে পারবো না। কিন্তু আমরা ওর জন্য অপেক্ষা করবো।’  

যদিও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সদস্য নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মবাষির্কী উপলক্ষ্যে আগামীকাল ২৩ জানুয়ারী পশ্চিমবঙ্গে আসছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই তার আগে রাজীবের এই ইস্তফা নানা জল্পনা উস্কে দিল। 


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর