অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে হবে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন। এবারের নির্বাচন নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহের। গত ৩০ জুন ছিল সদস্য/ভোটার হওয়ার শেষ দিন। শেষ দিন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ২৯৫ জন ফি দিয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। ফি বাবদ আয় হয়েছে ৬ লাখ ৬৯ হাজার ১০০ ডলার। আজীবন সদস্যসহ এবারের মোট ভোটার পৌঁছেছে ৩৫ হাজার ৩২১ জনে। এবারই রেকর্ডসংখ্যক ভোটার পেল নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটি। এর আগে সংগঠনের সর্বোচ্চ ভোটার ছিল সাড়ে ২৭ হাজারের মতো। ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্তির এই আমেজে আগামী নির্বাচনে সরাসরি দুই প্যানেলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে বিজয়ীরা তিন বছর দায়িত্বে থাকবেন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তাঁদের চ্যালেঞ্জ জানাতে মাঠে নেমেছেন নতুন সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ফিরোজ আহমেদ। চলমান কমিটির বিরুদ্ধে এর মধ্যে অনেককেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। তাঁদের অভিযোগ এই কমিটি তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী বাংলাদেশ সেন্টার নির্মাণে সক্ষম হয়নি। অধিকন্তু তারা ভবন ক্রয় নিয়ে চরম মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, ইফতার মাহফিল এবং ৫০ বছর পূর্তি উৎসবের খরচ নিয়েও রয়েছে নানান বিতর্ক। এ ছাড়া নিউইয়র্ক অঞ্চলের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান নেতারা ‘বাংলাদেশ ডে প্যারেড’-এর অনুমতি সংগ্রহেও সক্ষম হননি। তাই অনেকের প্রশ্ন তাঁরা আবারও প্রার্থী হচ্ছেন কীভাবে? তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনুও সমালোচনার বাইরে নেই। এর আগে একই পদে তিনি নির্বাচিত হয়েও অঙ্গীকারের পরিপূরক কিছু করেছেন বলে রেকর্ড নেই। এ নিয়েও নানা কথা রয়েছে কমিউনিটিতে। তারপরও এবারের নির্বাচন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলেই মনে করছেন ভোটাররা। কারণ বিগত নির্বাচনগুলোর ফলাফলের ওপর দৃষ্টি রাখলে দেখা যাবে, যাঁরা বেশি ভোটার বানিয়েছেন, তাঁরাই জয় পেয়েছেন। জানা গেছে, এবার রেকর্ড ভোটার হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে প্রার্থীদের পকেটের টাকায় সদস্য হিসেবে তালিকাভুক্তির হিড়িক।
ফলে ভোটার তালিকায় কিছু প্রবাসীর নাম একাধিকবারও পাওয়া গেছে। আবার এমনও হয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম এলেও তাঁরা অনেকে জানেন না সদস্য হওয়ার খবর। সে যা-ই হোক বাংলাদেশ সোইটির নির্বাচন নিয়ে এখন চলছে নিজের পাল্লা ভারী করার জন্য নানান প্রতিশ্রুতি।