বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন তৈরির মূল কাঁচামাল হিসেবে পরিচিত বিরল প্রজাতির তুলা ‘ফুটি কার্পাস’-এর সন্ধান মিলেছে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায়। দীর্ঘ গবেষণা ও অনুসন্ধানের পর চিহ্নিত এ ঐতিহাসিক উদ্ভিদ সংরক্ষণে উদ্যোগ নিয়েছে কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঢাকাই মসলিন বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক গৌরবময় অধ্যায়। একসময় ঢাকার অদূরের সোনারগাঁকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মসলিন শিল্প বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিল। ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে, ১২ হাত লম্বা একটি মসলিন শাড়িও অনায়াসে একটি আংটির ভিতর দিয়ে পার করা যেত। ঐতিহাসিক দলিল, গবেষণা ও অধ্যাপক আবুল করিমের ঢাকাই মসলিন গ্রন্থের তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকরা ফুটি কার্পাসের সন্ধানে দেশব্যাপী অনুসন্ধান চালান। জেমস টেইলরের বর্ণনা অনুযায়ী, উৎকৃষ্ট মানের ফুটি কার্পাস উৎপাদিত হতো তিতাবাদী (বর্তমান গাজীপুরের অংশ), বাজিতপুর, ধামরাই ও সোনারগাঁ অঞ্চলে। সেই সূত্র ধরে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের অনুসন্ধানে কাপাসিয়া উপজেলার আমরাইদ মৌজার হাইলজোর এলাকায় একটি তুলা গাছ শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং ঢাকাই মসলিন কাপড়ের ডিএনএ সিকোয়েন্সের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি বহুল কাক্সিক্ষত ফুটি কার্পাস। বর্তমানে গাছ দুটি সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রায়েদ ইউনিয়ন পরিষদ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না তাসনীমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংরক্ষিত স্থান পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তামান্না তাসনীম বলেন, ‘ফুটি কার্পাস শুধু একটি তুলা গাছ নয়, এটি আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য, ইতিহাস ও গৌরবের প্রতীক। এই অমূল্য সম্পদ সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছ দুটি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে গবেষণা, সংরক্ষণ এবং ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনের সমন্বয়ে কাপাসিয়াকে মসলিনের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’