শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২০:৩০

তথ্য নিয়েও লুকোচুরি কমিশনের

ইসির দায়সারা নির্দেশ, জানেন না কাউন্সিলর প্রার্থীরা

সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

ইসির দায়সারা নির্দেশ, জানেন না কাউন্সিলর প্রার্থীরা

চট্টগ্রাম জেলা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং নির্বাচনী তথ্যসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে চট্টগ্রামের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দায়িত্বশীলরা লুকোছুড়ি শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একইভাবে তিনদিন আগে নগরীর বিভিন্ন স্পট থেকে শুভেচ্ছা সম্বলিত ব্যানার-পোস্টার অপসারণের নির্দেশ দিলেও এসব বিষয়ে অবগত নন বলে জানান কাউন্সিলর প্রার্থীরা।

নির্বাচন অফিস ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চসিকের রিটার্নিং কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান রবিবার এক আদেশে নগরীতে প্রার্থীদের শুভেচ্ছা সম্বলিত পোস্টারসহ নানা উপকরণ অপসারণের নির্দেশ দিলেও সোমবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা ৬টা) সরানো হয়নি। তবে এ নিয়ে অনেক প্রার্থী বলছেন, এই নির্দেশ দেয়া হলেও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। কয়েকদিন ধরেই ইসি থেকে চসিক নির্বাচনে মেয়র, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও পুরুষ কাউন্সিলর পদে স্বতন্ত্র, দলীয়ভাবে মনোনয়ন সংগ্রহ করছেন প্রার্থীরা। হঠাৎ চসিকের রির্টানিং কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামানের স্টাফ অফিসার বুলবুল আহমেদ অদৃশ্য শক্তির কারণেই শুরু থেকেই তথ্য দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলীয় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলেন, অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এবং স্বতন্ত্র হিসেবেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন এবং করছেন। এসব বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে এই মুহুর্তে জানা-জানি হলে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমস্যার দৃষ্টি হতে পারে। এমন শঙ্কা এবং নানাবিধ কৌশলী কারণেই স্টাফ অফিসার বুলবুল আহমেদ এসব তথ্য নিয়ে লুকোচুরি করছেন। তবে তাঁকে অন্যত্র সরিয়ে না দিলে চসিক নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, তথ্য দেয়ার বিষয়ে যেই সমস্যা হয়েছে, সেটি সম্পর্কে আমি অবগত নই, এখনও শুনেছি। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। তাছাড়া সবার সমন্বয়ে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে শেষ করতে চাই। 

তিনি বলেন, সোমবার রাত ১২টার মধ্যেই সিটি নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের পক্ষে শুভেচ্ছা বাণী, দোয়াপ্রার্থী সম্বলিত ব্যানার, পোস্টার, দেয়ালিকা, বিলবোর্ড, গেইট, তোরণ, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা ইত্যাদি প্রচার সামগ্রী প্রার্থীদের স্বউদ্যোগে অপসারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব অপসারণ করা না হলে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর অভিযুক্ত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চট্টগ্রামের ১৬, ২০, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী রুমকি সেনগুপ্তা বলেন, শুভেচ্ছা সম্বলিত পোস্টার, ব্যানার অপসারণের বিষয়টি প্রথম শুনেছি। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন থেকে কিছুই জানানো হয়নি। একই কথা বললেন একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী।

প্রসঙ্গত, এবারের চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৯ মার্চ। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৭ ফেব্রুয়ারি। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ তারিখ ১ মার্চ। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৮ মার্চ। এছাড়া ৯ মার্চ প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম


আপনার মন্তব্য