শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ মার্চ, ২০২০ ১৯:২৫

করোনা পাল্টে দিল পুলিশের সেবার ধরন

ফোন করলেই ঘরে চলে আসছে বাজার

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম:

ফোন করলেই ঘরে চলে আসছে বাজার

এ যেন এক পাল্টে যাওয়া পুলিশিংয়ের গল্প। ঘরে ‘বন্দি’ কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ফোন করল পুলিশকে। কিছুক্ষণ পর পুলিশ চাহিদা মতো ভোগ্য পণ্য নিয়ে হাজির হয়ে দরজার কলিং বেল বাজাচ্ছেন। রূপ কথার গল্প মনে হলেও চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য এটাই বাস্তবতা। 

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এমন মানবিক পুলিশিং কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)। শুধু বাজার করে দেওয়া ন, হাসপাতালে রোগী পৌঁছে দেওয়া, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এমনকি বন্ধের দিনে দিনমজুরদের জন্য অন্ন সংস্থানের ব্যবস্থাও করছে পুলিশ।

সিএমপি’র কমিশনার মাহাবুবর রহমান বলেন, ‘করোনা ভাইরাস মোকাবেলা করতে সরকার লোকজনকে ঘরে থাকতে বলেছে। এসময় তাদের বাজার, ঔষধসহ নানা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দরকার রয়েছে। এ সময় নগরবাসী ঘরের বাইরে গেলে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছি মানবিক পুলিশিং কার্যক্রম চালাতে। এরই মধ্যে নির্দেশ মতো কাজ শুরু করেছে সিএমপি’র সকল ইউনিট।’

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জীবানুনাশক পানি ছিটানো এবং লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে মহানগরে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব রোধে কাজ শুরু করে সিএমপি। এরপর কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে প্রত্যেক থানা এলাকায় বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদের ঘরে ঘরে গিয়ে উপহার সামগ্রী পৌছে দেয়া ও করোনা নিয়ে মাইকিং করে জনসচেতনা তৈরি কর্মসূচি শুরু করে। সর্বশেষ ঘরে অবস্থান করা নগরবাসীদের চাহিদামত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পৌছে দিতে থানার ওসিদের নির্দেশ দেন। একই সাথে প্রত্যেক থানার জন্য হটলাইন চালু করেন। ওই হটলাইনে ফোন করার সাথে সাথে চাহিদা মত নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য পৌঁছে দেয়া হচ্ছে নগরবাসীর কাছে।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘নিত্য প্রয়োজনী পণ্য পৌঁছে দিতে কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি দল প্রস্তুত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে বেশ কিছু ফোন পেয়েছি। তাদের চাহিদা মত নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ সদস্যরা।’

পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাসেম ভুইয়া বলেন, ‘দুই মুমূর্ষু রোগীর পরিবার পাঁচলাইশ থানা পুলিশের সহায়তা চেয়ে ফোন করে। পরে পুলিশ গাড়ি দিয়ে ওই দুই মুমূর্ষু রোগীকে আন্দরকিল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে পৌছে দেয়।’

বাকলিয়া থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘নগরীর নিম্ন আয়ের লোকজনের সিংহভাগ বসবাস করে বাকলিয়া এলাকায়। এ সময়ে মানুষের ডাল ভাতের ব্যবস্থা করতে কলোনী মালিক ও বিত্তশালীদের সাথে কথা বলছি। এরই মধ্যে অনেক কলোনী মালিক বিভিন্ন গ্রুপের খাবারের যোগান এবং ঘর ভাড়া মওকুফের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে। একই সাথে কলোনী বাসিন্দাদের মাঝে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করছে।’


বিডি প্রতিদিন/হিমেল


আপনার মন্তব্য