শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:৫৪

সুনামগঞ্জে বোরো চাষে অনীহা কৃষকের

এক মণ ধানের দামে দুই কেজি বীজ, বেড়েছে অন্যান্য খরচ

মাসুম হেলাল, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে বোরো চাষে অনীহা কৃষকের

এক মণ ধানের বাজারমূল্য বর্তমানে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা। এই ধান উৎপাদনের জন্য এক কেজি বীজ কিনতে কৃষককে ব্যয় করতে হচ্ছে ৩৫০ টাকা। অর্থাৎ এক কেজি ধানজীব কিনতে লাগে এক মণ ধানের দামে। এর সঙ্গে রয়েছে বীজতলা তৈরি, জমি চাষ, সেচ, আগাছা বাছাই, সার প্রয়োগ, ধান লাগানো ও কাটায় শ্রমিক খরচ। সব মিলিয়ে বোরো ধান চাষ করে কৃষকের লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে না বললেই চলে। উৎপাদন খরচের তুলনায় উৎপাদিত ফসলের দাম কম হওয়ায় ক্রমেই বোরো আবাদে উৎসাহ হারাচ্ছেন সুনামগঞ্জের কৃষকরা। ফলে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদী পড়ে থাকার শঙ্কা রয়েছে। বোরো চাষীদের প্রণোদনা, বীনামূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক, বিনাসুদে কৃষিঋণ এবং মৌসুম শেষে সরকারের তরফ থেকে ন্যায্যমূল্যে কৃষকের চাহিদা মতো ধান-চাল ক্রয় করে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সফর উদ্দিন বলেন, ‘বোরো চাষের জন্য কৃষকদের সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো প্রণোদনা দেওয়া হয় না। তবে কৃষকের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার সারের দাম প্রতি কেজিতে ৯ টাকা করে কমিয়েছে।’ কৃষকরা জানান, বছরের এই সময়ে বোরো আবাদের জন্য বীজতলা তৈরি করে তারা। বছরে একটিমাত্র ফসলের উপর নির্ভরশীল কৃষকরা ধান কাটার পর তার প্রয়োজন মেটাতে কম দামে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে নতুন করে ফসল উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন তা যোগানোর সামর্থ্য কম কৃষকেরই রয়েছে। এদিকে ধানের উৎপাদন খরচ বেশি ও বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় বর্গাচাষী ও জমি বর্গা দেওয়া গৃহস্থ দুই শ্রেণিই পড়েছেন বিপাকে। লাভ না হওয়ায় বর্গাচাষীরা জমি বর্গা নিতে উৎসাহ খুব একটা দেখাচ্ছেন না। দিরাই উপজেলার ঘিলটিয়ার হাওরের কৃষক জয় সেন জানান, ‘ধান ৪০০ টাকা মণ দরে বেচা শুরু করছিলাম, অনে সর্বোচ্চ ৬০০ থাকি সাড়ে ৬৫০। ধান বেচিয়াই তো আমরা নয়া কইরা হালচাষ করতাম। ধানের দাম না ফাইলে কেমনে কিতা করমু।’ সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ বলেন, ‘বোরো চাষীদের সুবিধার জন্য বিশেষ প্রণোদনার প্রয়োজন হলে বিষয়টি সরকারকে জানাবো।’


আপনার মন্তব্য