শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৬ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:৩৭

সৌরবিদ্যুতের ৫০ মেগাওয়াট যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে

সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ

সৌরবিদ্যুতের ৫০ মেগাওয়াট যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে
ময়মনসিংহের সুতিয়াখালি ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প। ড্রোন থেকে তোলা ছবি -বাংলাদেশ প্রতিদিন

ব্রহ্মপুত্র নদের বিশাল জলরাশি। সেই জলরাশির দুই পাশে ছিল বালুচর। এখন ওই বালুচরের একপাশে ১৭৪ একর জমির ওপর এক বর্গকিলোমিটারজুড়ে সারি সারি প্যানেল। প্যানেলগুলো রোদে চিক চিক করছে। যেখান থেকে উৎপাদিত হতে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। আর এই সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শিগগিরই যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে। চলতি মাসের শেষদিকে এর পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর এ সৌর প্যানেল থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নবায়নযোগ্য এ আলোর দেখা মিলতে পারত আরও ছয় মাস আগেই। করোনার কারণে বিলম্ব হয়েছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের যৌথ উদ্যোগে এইচডিএফসি সিনপাওয়ার লিমিটেড বাস্তবায়ন করেছে। ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরিবেশবান্ধব এ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ এখন প্রায় সম্পন্ন। সরেজমিন দেখা গেছে, এখানে মোট প্যানেল রয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার। ইনভার্টার আছে তিন শতাধিক। সাব-স্টেশনসহ ১৩২ কেভিএ ট্রান্সমিশন টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। ১২টি ট্রান্সফরমার সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পের অধীনে অফিস ভবন, ব্রহ্মপুত্র নদ শাসন বাঁধ, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটিই দেশের প্রথম মেগা সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক ও ময়মনসিংহ পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দ্রজিৎ দেবনাথ জানান, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কেওয়াটখালী পর্যন্ত চার কিলোমিটার আন্ডার গ্রাউন্ড ক্যাবল স্থাপন এবং এক কিলোমিটার ওভারহেড ট্রান্সমিশন সঞ্চালন লাইন স্থাপন করা হয়েছে। এইচডিএফসি সিনপাওয়ার লিমিটেডের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দেশে চলমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় প্রকল্প। সরকারের দেওয়া বর্ধিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, অতিশিগগিরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদানে প্রকল্পটি মাইলফলক হয়ে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্পের সুফল পাবে ময়মনসিংহের মানুষ। প্রকল্পটির কারণে স্থানীয়ভাবে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে কাগজে-কলমে এ প্রকল্পের যাত্রা শুরু। কিন্তু এরও দুই বছর পর ২০১৬ সালের শেষ দিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ‘বাস্তবায়নচুক্তি’ এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে ‘বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি’ স্বাক্ষর হয়। পরে ২০১৭ সালে ‘সুতিয়াখালি ৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প’ নামে বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা হয়। প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ বাড়ানোর পর গত ৩০ জুনের মধ্যেই উৎপাদন শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের কাজে জড়িত চীনা প্রকৌশলীরা নববর্ষের ছুটিতে দেশে যাওয়ায় পর করোনা দুর্যোগের কারণে সময়মতো ফিরতে পারেনি। ফলে সোলার প্লেট বসানো ও সংযোগ প্রদানে নেমে আসে স্থবিরতা। এছাড়াও স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি আর কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রকল্পের কাজে বিঘ্নের সৃষ্টি করে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর হস্তক্ষেপের ফলে সব বাধা বিপত্তি কাটিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর