শিরোনাম
সোমবার, ২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ টা

মৌলভীবাজারে স্মার্টফোনে আসক্ত শিক্ষার্থীরা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারে স্মার্টফোনে আসক্ত শিক্ষার্থীরা

কভিড-১৯ এর প্রভাবে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। বাসাবাড়িতে অলস সময় কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এই সুযোগে মৌলভীবাজারে অনেকে স্মার্টফোনে আসক্ত হচ্ছে। নানা বাহানা ধরে অভিভাবকদের কাছ থেকে স্মার্টফোন নিয়ে অনলাইনে গেম খেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করছে। কোনো কোনো শিক্ষার্থীর সময় ব্যয় হচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোতে। নানা কৌশল অবলম্বন করেও অভিভাবকরা তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকার কারণে এবং স্মার্টফোনের অপব্যবহারে অনেক শিশুর মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন আসছে। এমন পরিস্থিতি একদিকে যেমন তাদের সঠিক মনোবিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে অন্যদিকে নিয়মতান্ত্রিক জীবনে অনভ্যস্ত হওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এদিকে অনলাইনে পাঠদানের নামেও শিক্ষার্থীদের হাতে অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা হাতে স্মার্টফোন পেয়ে অনলাইনে পাঠদান না করে বিভিন্ন খেলাসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যস্ত থাকছে। অনেকের কাছে গেম নেশায় পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সন্তানদের নিয়ে দুচিন্তায় আছেন মৌলভীবাজারের অভিভাবকরা। একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় সময় কাটানোর জন্য মাঝেমধ্যে গেম খেলতাম। এখন তা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এখন দিনে কয়েকবার ফেসবুকে ঢুকতে হয় এবং গেম খেলতে হয়। মৌলভীবাজার পুলিশ কার্যালয়ে কর্মরত এক অভিভাবক বলেন, ছেলে সারা রাত মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে। কোনো অবস্থায়ই তার হাত থেকে মোবাইল নেওয়া সম্ভব নয়। রাজনগর উপজেলার বালিগাঁও গ্রামের এক অভিভাবক বলেন, ছেলের বয়স ১০ বছর। কিন্তু রাত ১২-১টা হলেও তার হাত থেকে মোবাইল নিতে পারি না। অনেক দেনদরবার করতে হয়। এটা মাদকের মতো নেশায় পরিণত হয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা শিশু কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন মাসুদ বলেন, স্মার্টফোনের অপব্যবহারে শিশুদের স্মৃতিশক্তি লোপ পাচ্ছে। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে হেডফোন ব্যবহারের কারণে তাদের কানে নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসবের কারণে শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করে। কথা শোনে না। মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফজলুর রহমান বলেন, প্রতিদিন অনেক অভিভাবক এমন অভিযোগ দিচ্ছেন। বিদ্যালয় বন্ধ রাখার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা থাকায় আমরা কিছুই করতে পারছি না। আমি মনে করি বিদ্যালয় খুলে দিলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেলের সহকারী অধ্যাপক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাঈদ এনাম বলেন, ক্লাসের পরবর্তী সময়টুকু স্মার্টফোনের অপব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটে আসক্ত হচ্ছে। অনেক সময় রাত জেগে মোবাইলে গেম খেলে। ফলে তারা অস্বাভাবিক আচরণ করছে।