ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে বিজয়নগর উপজেলার নূরপুর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ এক দশকেও শেষ হয়নি। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই সড়কটি ২০১৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালেও এর পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। একই সঙ্গে বোয়ালিয়া খালের ওপর সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয়রা।
জেলা ও উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের সীমনা পর্যন্ত নূরপুর জিসি-কালীবাড়ি আরএন্ডএইচ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয়। প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৮ থেকে ২৪ ফুট প্রস্থের এই সড়ক নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
প্রকল্পের আওতায় ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ডলি কন্সট্রাকশন ও ইনফ্রাটেক যৌথভাবে (জয়েন্ট ভেঞ্চারে) ৩৯ কোটি ৪১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করে। প্রথমে ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে একাধিকবার সময় বাড়ানো হয়। প্রথমে ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি, পরে ২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি এবং সর্বশেষ ২০২২ সাল পর্যন্ত। তবুও ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডলি কন্সট্রাকশন কাজ ফেলে চলে যায়। পরবর্তীতে অন্য ঠিকাদাররা মাটি ভরাট, দুই পাশে নিরাপত্তা দেয়াল, ব্লক, কালভার্ট, পুরনো সেতু ও সড়কের ওপর ইটের সলিং (হেরিং বন্ড) ইত্যাদি কাজ ২০১৯ সালের প্রথম দিকে শেষ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গড়িমসির কারণে প্রকল্প দীর্ঘদিন আটকে থাকে। ২০১৯ সালের নির্ধারিত সময়সীমা অনেক আগেই শেষ হয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি। ২০২২ সালে আংশিকভাবে সড়কটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হলেও এখনো বড় অংশের কাজ অসম্পূর্ণ।
এদিকে বোয়ালিয়া খালের ওপর নির্মিত সেতুর কাজ গত দুই-আড়াই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, তিতাস নদীর শাখা বোয়ালিয়া খালের ওপর ৬০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের জন্য ৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। ঠিকাদার খায়রুল হাসান কাজটি পান। ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ২১ মে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা সম্পন্ন হয়নি। পরে সেতুর কাজের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জুন করা হয় এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের বাসিন্দা আমেনা বেগম ও বিলকিস আক্তার বলেন, ঠিকাদার দুই বছর ধরে কাজ ফেলে রেখে চলে গেছে। এতে যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে ঠিকাদার খায়রুল হাসান জানান, শ্রমিকদের টালবাহানার কারণে সেতুর কাজ বিলম্বিত হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলীল বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে সেতুর কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বর্তমানে নির্মাণকাজ চলছে।
বিডি প্রতিদিন/এম.এস