সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ টা

দর্শকনন্দিত ঢাকাই যত ছবি

আলাউদ্দীন মাজিদ

দর্শকনন্দিত ঢাকাই যত ছবি

১৯৫৬ সাল। চলচ্চিত্রপ্রেমী আবদুল জব্বার খান  নির্মাণ করলেন চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’। এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এ দেশে সবাক চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হয়। ১৯৫৯ সালে সাড়া জাগায় এ জে কারদারের ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ ও এহতেশামের ‘এ  দেশ তোমার আমার’। মূলত ১৯৫৯ সাল থেকেই এ  দেশে নিয়মিত চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হয়। ১৯৬০ সালে এহতেশামের ‘রাজধানীর বুকে’ দর্শক সাদরে গ্রহণ করে। ১৯৬১ সালে সাড়া জাগায় মুস্তাফিজের ‘হারানো দিন’ ও জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’। ১৯৬২ সালে আলোচনায় আসে এহতেশামের ‘চান্দা’ ও ‘নতুন সুর’, সালাউদ্দীনের ‘সূর্যস্নান’। ১৯৬৩ সালে জহির রায়হানের ‘কাঁচের  দেয়াল’, মুস্তাফিজের ‘তালাশ’ সাড়া জাগায়। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হানের ‘সংগম’ (এ দেশের প্রথম রঙিন ছবি), সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ জনপ্রিয়তা পায়। এ দেশের প্রথম কোনো ছবি হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গন তাসখন্দ চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি পুরস্কৃত হয়। ১৯৬৫ সালে সালাউদ্দীন নির্মিত ‘রূপবান’ ছবিটি অসাধারণ ব্যবসা করে। এ দেশে উর্দু ছবির পরিবর্তে বাংলা ছবির স্থায়ী আসন গড়ে দেয়।  ১৯৬৬ সালে সুভাষ দত্তের ‘কাগজের নৌকা’ দর্শকপ্রিয়তা পায়। ১৯৬৭ সালে খান আতাউর রহমানের ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’, এহতেশামের ‘চকোরি’, সুভাষ দত্তের ‘আয়না ও অবশিষ্ট’, জহির রায়হানের ‘আনোয়ারা’, রহমানের ‘দরশন’, মুস্তাফিজের ‘ছোটে সাহাব’ এবং কাজী জহিরের ‘নয়নতারা’ ব্যবসাসফল হয়। ১৯৬৮ সালে দীলিপ সোমের ‘সাত ভাই চম্পা’, সুভাষ দত্তের ‘আবির্ভাব’, মিতার ‘এতটুকু আশা’ জনপ্রিয়তা হয়। ১৯৬৯ সালে কাজী জহিরের ‘ময়নামতি’, মুস্তাফিজের ‘আনাড়ি’, মিতার ‘নীল আকাশের নিচে’ জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৭০ সালে সাড়া জাগায় আমির হোসেনের ‘যে আগুনে পুড়ি, মিতার ‘ক খ গ ঘ ঙ’, এহতেশামের ‘পিচঢালা পথ’, নজরুল ইসলামের ‘স্বরলিপি’, ইবনে মিজানের ‘কত যে মিনতি’, সুভাষ দত্তের ‘বিনিময়’, কাজী জহিরের ‘মধুমিলন’, মিতার ‘দীপ নেভে নাই’। ১৯৭১ সালে সাড়া জাগায় আলমগীর কুমকুমের ‘স্মৃতিটুকু থাক’, অশোক ঘোষের ‘নাচের পুতুল’। ১৯৭২ সালে নজর কাড়ে মোস্তফা মেহমুদের ‘মানুষের মন’, আজিজুর রহমানের ‘সমাধান’, চাষী নজরুল ইসলামের ‘ওরা ১১ জন’, এস এম শফীর ‘ছন্দ হারিয়ে গেল’, বাবুল  চৌধুরীর ‘প্রতিশোধ’, কামাল আহমেদের ‘অশ্রু দিয়ে  লেখা’, সুভাষ দত্তের ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, কাজী জহিরের ‘অবুঝ মন’। ১৯৭৩ সালে দর্শকপ্রিয়তা পায় জহিরুল হকের ‘রংবাজ’, সি বি জামানের ‘ঝড়ের পাখি’, মহসিনের ‘রাতের পর দিন’, ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, খান আতাউর রহমানের ‘আবার তোরা মানুষ হ’ এবং আজিজুর রহমানের ‘অতিথি’। ১৯৭৪ সালে সাড়া জাগায় মিতার ‘আলোর মিছিল’, মাসুদ পারভেজের ‘মাসুদ রানা’, রুহুল আমিনের ‘বেঈমান’, ফয়েজ  চৌধুরীর ‘মালকা বানু’। ১৯৭৫ সালে নন্দিত হয়  মহসিনের ‘বাঁদী  থেকে বেগম’, দীলিপ সোমের ‘আলো তুমি আলেয়া’, বাবুল চৌধুরীর ‘চাষির  মেয়ে’, মাসুদ পারভেজের ‘এপার ওপার’, মিতার ‘লাঠিয়াল’, শিবলী সাদিকের ‘জীবন নিয়ে জুয়া’, আকবর কবির পিন্টুর ‘বাদশা’ (স্বাধীন দেশের প্রথম রঙিন ছবি), মুস্তাফিজের ‘আলো ছায়া’, খান আতার ‘সুজন সখী’। ১৯৭৬ সালে সুপারহিট হয় আজিমের ‘প্রতিনিধি’, ইবনে মিজানের ‘একমুঠো ভাত’, মুস্তাফিজের ‘মায়ার বাঁধন’, আলমগীর কবিরের ‘সূর্যকন্যা’, দিলীপ বিশ্বাসের ‘সমাধি’, জহিরুল হকের ‘কি যে করি’, আমজাদ  হোসেনের ‘নয়নমণি’, আলমগীর কুমকুমের ‘গুন্ডা’, এস এম শফীর ‘দি রেইন’, রাজেন তরফদারের ‘পালংক’, মহসিনের ‘আগুন’, মোস্তফা মেহমুদের ‘মণিহার’। ১৯৭৭ সালে জনপ্রিয় হয় আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’, রাজ্জাকের ‘অনন্ত প্রেম’,  দেওয়ান নজরুলের ‘দোস্ত দুশমন’, ইবনে মিজানের ‘নিশান’, সুভাষ দত্তের ‘বসুন্ধরা’, আবদুল লতিফ বাচ্চুর ‘যাদুর বাঁশি’। ১৯৭৮ সালে সাইফুল আজম কাশেমের ‘সোহাগ’, দিলীপ বিশ্বাসের ‘আসামি’, আজহারের ‘পাগলা রাজা’, কাজী জহিরের ‘বধূবিদায়’, আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘সারেং বৌ’, এ  জে মিন্টুর ‘মিন্টু আমার নাম’, আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, মিতার ‘অলংকার’, আজিজুর রহমানের ‘অশিক্ষিত’, অশোক ঘোষের ‘তুফান’, দারাশিকোর ‘ফকির মজনু শাহ’, সুভাষ দত্তের ‘ডুমুরের ফুল’। ১৯৭৯ সালে কামাল আহমেদের ‘অনুরাগ’, খান আতার ‘দিন যায় কথা থাকে’, শেখ নজরুল ইসলামের ‘নদের চাঁদ’, দিলীপ বিশ্বাসের ‘জিঞ্জির’, আজিজুর রহমানের ‘মাটির ঘর’, সাইফুল ইসলাম কাশেমের ‘ঘরসংসার’, তমিজউদ্দীন রিজভীর ‘ছোট মা’, রাজু সিরাজের ‘আরাধনা’, হাফিজ উদ্দিনের ‘ওয়াদা’, মমতাজ আলীর ‘ইমান’, কাজী হায়াতের ‘দি ফাদার’, আমজাদ হোসেনের ‘সুন্দরী’, মসিহউদ্দিন শাকের ও শেখ নেয়ামত আলীর ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’। ১৯৮০ সালে আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘সখী তুমি কার’, আজিজুর রহমানের ‘ছুটির ঘণ্টা’, আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘এখনই সময়’, বাদল রহমানের ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’, আজমল হুদা মিন্টুর ‘দোস্তী’, সাইফুল আজম কাশেমের ‘বৌরানী’,   সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকির ‘ঘুড্ডি’ এবং আমজাদ  হোসেনের ‘কসাই’। এছাড়া ঢালিউডের সাড়া জাগানো ছবির মধ্যে রয়েছে- সুচন্দার ‘তিন কন্যা’, রাজ্জাকের ‘চাঁপা ডাঙার বউ’, ‘বাবা কেন চাকর’, এ জে মিন্টুর ‘সত্য মিথ্যা’, দিলীপ বিশ্বাসের ‘অংশীদার’, জহিরুল হকের ‘সারেন্ডার’, গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ‘সন্ধি’, তোজাম্মেল হক বকুলের ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, কাজী হায়াতের ‘আম্মাজান’, সালমান শাহ অভিনীত ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘অন্তরে অন্তরে’, সালাউদ্দীন লাভলুর ‘মোল্লা বাড়ীর বউ’, এস এ হক অলিকের ‘হৃদয়ের আয়না’, গিয়াসউদ্দীন সেলিমের ‘মনপুরা’, অমিআভ রেজার ‘আয়নাবাজি’, রায়হান রাফির ‘পোড়ামন টু’, শাকিব খানের ‘শিকারি’, ‘নবাব’, ‘পাসওয়ার্ড’, ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’, ‘সত্তা’ শিহাব শাহিনের ‘ছুঁঁয়ে দিলে মন’, তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ মতিন রহমানের ‘ তোমাকে চাই’ প্রভৃতি।