প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ ফার্মেসিতে না পেয়ে বদলে দিতে বলার জেরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ ছিল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেবা। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সানিম (২৩) তার এক নিকটাত্মীয়কে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢামেকের জরুরি বিভাগে যান। রোগীকে দেখার পর দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মহসিন একটি প্রেসক্রিপশন দেন এবং ওষুধ বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে বলেন। তিনি কয়েকটি ফার্মেসিতে খুঁজেও ওই ওষুধ না পাওয়ায় চিকিৎসকের কাছে ফিরে এসে ওষুধটি পরিবর্তন করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ সময় সানিমের সঙ্গে ঢাবির কয়েকজন সহপাঠীও ছিলেন। চিকিৎসকের সঙ্গে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে জড়ান। এ পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা নিরাপত্তার দাবিতে জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ করে দেন। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমন অভিযোগ করেন, ওষুধের বিকল্প ব্র্যান্ড লিখে দিতে বলায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন। অন্যদিকে ঢামেকের ৭৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী নোমান বলেন, ১৫-২০ জন ঢাবি শিক্ষার্থী মিলে চারজন ডাক্তারের ওপর হামলা করে। ঢামেকের আরেক শিক্ষার্থী ইমরান খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ওষুধ না পেয়ে শিক্ষার্থীরা এসে ইন্টার্ন চিকিৎসকের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং পরে অতর্কিতভাবে হামলা চালান।
এরপর আরও শিক্ষার্থী এনে জরুরি বিভাগ ঘেরাও করা হয়। এ পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা নিরাপত্তার দাবিতে জরুরি বিভাগের সেবা বন্ধ করে দেন। মেডিকেলের প্রধান ফটকও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসক দীপ্ত নুর কল্লোল বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ কর্মবিরতির কর্মসূচি দেবেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে দ্রুত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকে হাসপাতালের পরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, পুলিশ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর জরুরি বিভাগের সেবা পুনরায় চালু করা হয়। রাত ১০টা ১৫ মিনিটে মেডিকেলের প্রধান ফটক পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার তদন্তে চিকিৎসা অনুষদের ডিন প্রফেসর ডা. নাদিম আহম্মেদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে শনিবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।