বজ্রপাতসহ প্রচণ্ড ঝড়, শিলা বৃষ্টিপাতজনিত কারণে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে গত ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কমপক্ষে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল এই তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যটির ত্রাণ কমিশনার হরিকেশ ভাস্কর। বুধবার সন্ধ্যা থেকেই শক্তিশালী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় রাজ্যটি। তছনছ হয়ে যায় রাজ্যটির একাধিক জেলা। যার মধ্যে রয়েছে ভদোহী, প্রয়াগরাজ, কানপুর-দেহাত, ফতেপুর, উন্নাও, বুদায়ু, চন্দৌলি, বারেইলি, সোনভদ্র, হারদৌই, বাহরাইচসহ অন্তত ১৯টি জেলা।
প্রয়াগরাজে সবচেয়ে বেশি ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, ভদোহী জেলায় ১৮ জন, মির্জাপুর জেলায় ১৫ জন, ফতেপুরে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ছয়জন করে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বাদায়ু এবং উন্নাও জেলায়। রাজ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী ঝড় ও বৃষ্টিজনিত কারণে অর্ধ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তারা সবাই স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেক্ষেত্রে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ১৩০টি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে, প্রায় শতাধিক বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝড়ের দাপটে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একাধিক জায়গায় গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে, ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ইন্টারনেট ব্যবস্থাও অচল হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একের পর এক ঘরবাড়ি। ভেঙে পড়েছে একাধিক মাটির বাড়ি। বড় বড় গাছ রাস্তা ও রেললাইনের ওপরে ভেঙে পড়ায়, যোগাযোগব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়ে। ঝড়ের পাশাপাশি প্রবল বৃষ্টির কারণে একাধিক জেলায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যেই এই ঝড়ের বেশ কিছু ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যা দেখে সহজেই অনুমান করা যায় ঝড়ের তীব্রতা। নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য সরকার। সেই সঙ্গে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যে কোনোরকম গাফিলতি করা হবে না বলেও করা বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে সকাল থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করেই উদ্ধার কাজে নামে উদ্ধারকারী দল। সড়কের ওপর পড়ে থাকা গাছগুলোকে কেটে সেগুলো সরানোর ব্যবস্থা করা হয়। স্বাভাবিক করা হয় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন মৌসুমের এমন তীব্র ঝড় ও বজ্রপাত অস্বাভাবিক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই চরম আবহাওয়ার ঘটনা অনেকটাই বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।