বৃষ্টিপাতের মধ্যেই দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পর এবার চট্টগ্রাম অঞ্চলেও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী ছয় দিন চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু, মাতামুহুরী, হালদা, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া ও গোমতী নদীর পানি সমতল দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে এবং চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে (০৬-০৯ জুলাই) কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ও আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। আগামী ৮-৯ দিন দেশের সব বিভাগে কম-বেশি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, ফেনী ও চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সৈয়দপুরে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আজ থেকে ৭ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে সিলেট বিভাগে ভারী ও উজানে ভারতের মেঘালয় ও আসাম প্রদেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী আজসহ দুই দিন দেশের অভ্যন্তরে ও তৎসংলগ্ন উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরবর্তী তিন দিন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস এরপর পৃষ্ঠা ২ কলাম ২[পেছনের পৃষ্ঠার পর] রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ বিরাজ করছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি আগামী দুই দিন বাড়তে পারে। সুরমা-কুশিয়ারার পানি এক দিন হ্রাস পেয়ে পরবর্তী দুই দিন বাড়তে পারে।
সাগর উত্তাল, নিরাপদ আশ্রয়ে শত শত ফিশিং ট্রলার : বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বৈরী আবহাওয়ায় উত্তাল হয়ে ওঠা সাগরে টিকতে না পেরে শত শত ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনসহ উপকূলের মৎস্য বন্দরগুলোতে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। মাছ আহরণে দীর্ঘ ৫৮ দিনের অবরোধ শেষে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ায় কবলে পড়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ফিরে আসতে হয়েছে জেলেদের। সুন্দরবনের দুবলার ভেদাখালী খালে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা ফিশিং ট্রলারের মাঝি নজরুল ইসলাম গতকাল বিকালে মোবাইল ফোনে জানান, সাগরে গত দুই দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। ফিশিং ট্রলারের বহর সাগরে টিকতে না পেরে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উপকূলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে কয়েক শ ফিশিং ট্রলার বাগেরহাটের প্রধান মৎস্য বন্দর কেবি ঘাট, শরণখোলা, রায়েন্দা, মহিপুর, খেপুপাড়া, নিদ্রাসখিনা, পাথরঘাটা উপকূলসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার থেকে আশ্রয় নিয়ে আছে।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। বড় বড় ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ছে। গতকাল সকাল থেকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে।
লালমনিরহাট প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানান, বন্যার পানি নেমে গেছে এক দিন আগেই। কিন্তু নদী তীরবর্তী বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে এখনো পড়ে আছে পুরু বালুর স্তর। কোথাও ছয়-সাত ইঞ্চি, কোথাও এক থেকে দুই ফুট পর্যন্ত বালু জমে উর্বর কৃষিজমি ঢেকে ফেলেছে। ফলে আমনসহ মৌসুমি ফসল আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত বালু অপসারণ করা না গেলে এসব জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে থাকতে পারে।