শুরু হয়ে গেল বিশ্বকাপ ফুটবলের আসল উত্তেজনা। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে মাঠে গড়িয়েছে শীর্ষ বত্রিশের নকআউট পর্ব। নকআউট মানেই বাঁচা-মরার লড়াই। এখানে ড্র করার আর সুযোগ নেই। জিততেই হবে। হারলে প্লেন ধরতে হবে। এবারে দ্বিতীয় রাউন্ডটা আবার শুরু হয়েছে নতুনত্ব দিয়ে। আগে টপ সিক্সটিন দিয়ে বাঁচা-মরার পর্ব শুরু হতো। এবারই প্রথম ৪৮ দেশ বিশ্বকাপে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৬ দেশ গ্রুপ পর্ব খেলেই বিদায় নিয়েছে। বাকি ৩২ দল নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এখন আর গোল ব্যবধান বা হেড টু হেডের সমীকরণের সুযোগ নেই। নির্ধারিত ৯০, অতিরিক্ত ৩০ মিনিট কিংবা টাইব্রেকারে জিততেই হবে। হারলেই সব শেষ। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মধ্যে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলই নকআউট পর্বে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে। প্রতিপক্ষ ফুটবলে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান। নক আউটপর্বে আছে হলুদ জার্সিধারীদের বিরল এক রেকর্ড। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর ব্রাজিলই একমাত্র দেশ যারা চূড়ান্ত পর্বে খেলার টিকিট পেয়েছে। আবার দ্বিতীয় রাউন্ড, শেষ ষোলো বা নকআউট যাই বলি না কেন, ব্রাজিলই সবচেয়ে বেশি খেলেছে।
এখানেও ব্রাজিলের পাশে কেউ নেই। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপেই শুধু হলুদ জার্সিধারীরা গ্রুপ পর্ব খেলেই বিদায় নিয়েছিল। এরপর ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্ব থেকে
বিদায় নেয়। ২৩ বিশ্বকাপে ব্রাজিলই সর্বোচ্চ ২১ বার দ্বিতীয় রাউন্ড বা নকআউট পর্ব খেলছে। ব্রাজিলের পর জার্মানির অবস্থান। এবার নিয়ে তারা ১৭ বার গ্রুপ পর্ব পাড়ি দিয়েছে। আর্জেন্টিনা ১৫ বারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ড বা নকআউট পর্বে খেলছে। অবশ্য আর্জেন্টনা প্রথম বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়ার পর ১৯৩৮, ১৯৫০, ১৯৫৪ ও ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি। অন্যদিকে জার্মানি ১৯৩০ ও ১৯৫০ বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ শিরোপাধারী ও সবচেয়ে বেশি গ্রুপ পর্ব উত্তীর্ণ দল হলেও ব্রাজিলের আগের শক্তিকে এখন স্মৃতি বললেও ভুল হবে না। ২০০২ সালে শেষবার চ্যাম্পিয়নের পর ফাইনালই খেলতে পারেনি। অবশ্য এর আগেও ব্রাজিল ২৪ বছর পর হারানো ট্রফি উদ্ধার করেছিল। ১৯৭০ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপ জেতার পর ১৯৯৪ সালে গর্বের ট্রফি ফিরে পেয়েছিল তারা। এবার কি তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে? কে চ্যাম্পিয়ন হবে বা মুশকিল। তবে গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স যে গতিময় খেলা খেলছে তাতে পারফরম্যান্সের বিচারে দুই দেশকে এগিয়ে রাখা যায়। মেক্সিকোও গ্রুপে তিন ম্যাচ জিতলেও তারা শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকবে তা মনে হয় না।
তা হলে কি ব্রাজিলের দৌড় ৩২-এ শেষ হয়ে যাবে। এশিয়ার দল হলেও জাপান যথেষ্ট শক্তিশালী। তার প্রমাণ দিয়েছে বিশ্বকাপের আগে কিরিন কাপে ব্রাজিলকে হারিয়ে। বিশ্বকাপের সঙ্গে আবার অন্য টুর্নামেন্টের তুলনা চলে না। তা ছাড়া গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করার পর হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে চেনা ব্রাজিলের দেখা মিলেছে। ভিনিসাস তো বটেই, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের সবাই যে নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তাতে সোনালি দিনের ব্রাজিলের সঙ্গে তুলনা করা যায়। নেইমারও মাঠে ফিরেছেন। তাই সমর্থকরা আশাবাদী জাপানকে হারিয়ে তাদের প্রিয় দল সামনে এগিয়ে যাবে। যদি উল্টোটা হয় তাহলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের উন্মাদনা অর্ধেকই শেষ হয়ে যাবে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী ঘটে।