শিরোনাম
প্রকাশ : ৮ নভেম্বর, ২০১৯ ২০:২৩

অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তাই পেল না পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার কাছে পাত্তাই পেল না পাকিস্তান
সংগৃহীত ছবি

দেশের মাটিতে দীর্ঘ ৯ বছর পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল অস্ট্রেলিয়া। সিরিজে অস্ট্রেলিয়া হারছে না, সেটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আগেই। পাকিস্তান বড়জোর ফেরাতে পারত সমতা। কিন্তু সেটা দূরে থাক, লড়াইটাও করতে পারেনি। ১০ উইকেটের জয়ে সিরিজ জিতল ২-০ ব্যবধানে, টি-টোয়েন্টির বছর শেষ করল অপরাজিত থেকেই। আর পাকিস্তানের ২০ ওভারের দুঃস্বপ্ন চলছেই, এই বছর একটা মাত্র ম্যাচে হেরেছে তারা। সামনের বছর নিজেদের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, তার আগে প্রতিপক্ষদের শক্ত একটা বার্তা দিয়ে রাখল অস্ট্রেলিয়া।

শুক্রবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে উড়ে গেছে পাকিস্তান। পাঁচ বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ম্যাচসেরা হয়েছেন অজি পেসার শন অ্যাবোট। সিরিজ সেরা হয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্টিভেন স্মিথ। সর্বশেষ ২০১০ সালে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া এক ম্যাচের সিরিজ জিতেছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। পার্থে টস হেরে ব্যাট হাতে নেমে তৃতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। 

 প্রথম দুই ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরি করা নতুন অধিনায়ক বাবর আজম এবার আর নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ১টি চারে ৬ রান করে অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের বলে লেগ বিফোর হন বাবর। বাবর ফিরলে তিন নম্বরে ব্যাট হাতে নামেন উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ান। পরের ডেলিভারিতেই রিজওয়ানকে বোল্ড করে হ্যাট্রিকের সুযোগ তৈরি করেন স্টার্ক। কিন্তু হ্যাট্রিকের স্বাদ নিতে পারেননি। রিজওয়ান শূন্য হাতে ফিরলে দলীয় ১৫ রানে ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

দ্রুত ২ উইকেট হারানোর চাপ সামলে উঠার আগেই পাকিস্তান শিবিরে তৃতীয় আঘাত হানেন অস্ট্রেলিয়ার আরেক পেসার সিন অ্যাবট। দু’অংকে পা দেয়া আরেক ওপেনার ইমাম উল হককে বিদায় দেন অ্যাবট। ১৫ বলে ১৪ রান করেন ইমাম। দলীয় ২২ রানে ইমামের বিদায়ে পাকিস্তানকে চাপমুক্ত করার চেষ্টা করেন হারিস সোহেল ও ইফতেখার আহমেদ (৪৫)। 

অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের উপর মারমুখী হবার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে ১০ম ওভারের প্রথম বলে সোহেল-ইফতেখার জুটিতে ভাঙ্গন ধরান অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার অ্যাস্টন আগার। ৮ রান করে আউট হন সোহেল। এরপর অস্ট্রেলিয়ার পেসার কেন রিচার্ডসনের পেস তোপে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা যাওয়া-আসার মিছিল শুরু করেন। পুরো ইনিংসে ইমাম ও ইফতেখার ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যানই দুই অংকের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৬ রানের মামুলি সংগ্রহ পায় পাকিস্তান।

জবাবে ১০৭ রানের সহজ লক্ষ্যে নিজেদের ইনিংস শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের মারমুখী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৫৬ রান তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এসময় ২০ বলে ৩১ রান করেন ফিঞ্চ। তার সঙ্গী ডেভিড ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে এসেছিল ১৬ বলে ২২ রান। ১১ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান একশ ছাড়ায়। তখন দুই জনই হাফ-সেঞ্চুরির দোঁড়গোড়ায় ছিলেন। দলও ছিল জয় থেকে ৭ রান দূরে। ১২তম ওভারের পঞ্চম বলে বাউন্ডারি মেরে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১১তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ফিঞ্চ। আর ঐ বাউন্ডারিতে অস্ট্রেলিয়ার জয়ও নিশ্চিত হয়। ফিঞ্চ ৩৬ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৩টি ছক্কায় ৫২ এবং ওয়ার্নার ৩৫ বলে ৪ বাউন্ডারি এবং ২টি ছক্কায় ৪৮ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। বৃষ্টিতে প্রথম ম্যাচ ভেসে না গেলে সেটি যে অস্ট্রেলিয়া জিতত, সেটি নিয়েও কোনো সংশয় ছিলো না!

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য