কতিপয় সংশোধনীসহ আজ জাতীয় সংসদে পাস হবে অর্থ বিল ২০২৬। এ ছাড়া আগামীকাল ৩০ জুন সংসদে পাস করা হবে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট। যা আগামী ১ জুলাই থেকেই কার্যকর করা হবে। প্রস্তাবিত বাজেটে খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের ওপর ‘স্পেসিফিক ভ্যাট’ নামে প্যাকেজ আকারে যে নতুন ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা ছিল, তা থেকে সরে আসতে পারে সরকার। ১১ জুন বাজেট উপস্থাপনের পর থেকে সংসদ এবং সংসদের বাইরে এসব ইস্যুতে আলোচনা-সমালোচনা বিবেচনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে প্রস্তুতির ঘাটতি ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। অর্থ বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে, ভ্যাট ও করব্যবস্থার ওপর প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর কয়েকটিতে সংশোধনী আনা হবে। আবার প্রত্যাহারও হতে পারে কয়েকটি। এ ছাড়া ব্যাংক হিসাব খুলতে কর শনাক্তকরন নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করা ও সঞ্চয়পত্রের ওপর করারোপের সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসতে পারে সরকার। পাশাপাশি ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হতে পারে। যা উত্থাপিত বাজেটে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছিল। এসব সংশোধনী এনে প্রস্তাবিত অর্থ বিল ২০২৬ কণ্ঠভোটে জাতীয় সংসদে পাস করা হচ্ছে আজ। সূত্র আরও জানায়, বাতিল হতে পারে নতুন ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য বাধ্যতামূলক করা টিআইএনের প্রস্তাব।
ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পগুলোতে জমির মালিকদের ওপর প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। এ ছাড়া আগামী করবর্ষে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩.৭৫ লাখ থেকে বেড়ে ৪ লাখ টাকা হতে পারে এবং তা ২০২৭-২৮ অর্থবছরেও বহাল থাকতে পারে। ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ করবর্ষের জন্য এই সীমা বাড়িয়ে ৪.৫ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ টাকা করা হতে পারে। অর্থ বিভাগের সূত্র জানায়, মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় রিটেইল পর্যায়ে নতুন করে যে স্পেসিফিক ভ্যাট আরোপের কথা ছিল, তা এ বছর বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে পরের বছর (২০২৭-২৮) থেকে সেটা বাস্তবায়ন করা হতে পারে। ২৪ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনা চলাকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মুদি দোকান, প্রসাধনসামগ্রীর দোকানসহ ১৬টি খুচরা ও সেবামূলক খাতকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ‘স্পেসিফিক ট্যাক্স’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কিন্তু চূড়ান্তভাবে তা কার্যকরা করা সম্ভব হচ্ছে না।