শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৭

বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্ক ভারত

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশকে নিয়ে সতর্ক ভারত
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামার আগে অনুশীলনে টেনিস খেলছেন কোহলি —এএফপি

এই মুুহূর্তে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ দল ভারত। বাংলাদেশ ৯ নম্বরে। বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যানদের নামের তালিকায় সবার আগে আসছে ভারতীয় বিরাট কোহলির। দারুণ খেলছেন। গত দুই বছরে তিন-তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। প্রতিপক্ষ বোলারদের যম হয়ে উঠছেন দিন দিন। ব্যাটে যেমন সংহার মূর্তি ধারণ করেন মুহূর্তে, একইভাবে কথা বলায় পারদর্শী সমানভাবে। আজ হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ-ভারত ঐতিহাসিক টেস্ট। ভারতের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। মুহূর্তটাকে উপভোগ করতে গোটা বাংলাদেশ তাকিয়ে। তাকিয়ে ভারতও। ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি টেস্ট শুরুর আগের দিন দুই দেশের একমাত্র টেস্ট ম্যাচটিকে ঐতিহাসিক বলতে দ্বিধা করেননি। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে নিয়ে বাড়তি মনোযোগের কথাও বলেছেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে  বাংলাদেশের টেস্ট অভিষেক হয় ২০০০ সালে। এরপর দুই দেশ আরও ৭টি টেস্ট খেলেছে। আজকের ঐতিহাসিক টেস্টের আগে দুই দেশ পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে ৮ বার। দুটি ড্র হয়েছে বৃষ্টিভাগ্যে। ৬টিতেই হেরেছে টাইগাররা। পরিসংখ্যান বলছে, শক্তি ও সামর্থ্যে অনেক এগিয়ে ভারত। তারপরও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স স্বাগতিক অধিনায়ককে বাড়তি মনোযোগী করতে বাধ্য করেছে, ‘বাংলাদেশের ব্যাটিংকে হালকা চোখে দেখার কোনো কারণ নেই। যে দল একদিনে সাড়ে তিনশর ওপরে রান করে, তাদের ব্যাটিং লাইন অবশ্যই শক্তিশালী। মনে রাখতে হবে, টেস্টে ওভারপ্রতি সাড়ে চার রান করা কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয়।’ কোহলি এই মুহূর্তে রয়েছে ফর্মে মধ্যগগনে। মুরলি বিজয়, চেতেশ্বর পূজারা, আজিঙ্কা রাহানেরা রয়েছেন দারুণ ফর্মে। রবিচন্দন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, মোহাম্মদ শামী, উমেশ যাদবরাও খেলছেন দুর্দান্ত। এমন একটি দল গত ১৮ টেস্টে অপরাজিত। বিশেষ করে মাঠে অসাধারণ খেলছে। এমন একটি দলের ফেবারিটের আসনে বসাই স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত কিংবা দলগত পারফরম্যান্সে ভারত এখন দুর্দান্ত এক দল। কিন্তু ভারতীয় অধিনায়ক ঐতিহাসিক টেস্টটি জিততে ব্যক্তির চেয়ে দলগত পারফরম্যান্সকেই এগিয়ে রাখছেন, ‘টেস্ট জিততে হলে আপনাকে পরিশ্রম ও সামর্থ্যের পুরোটাই প্রয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশে বেশ কয়েকজন কোয়ালিটি ক্রিকেটার আছেন। সুতরাং আমাদের জিততে দলগতভাবেই সেরা পারফরম্যান্স করতে হবে।’

২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে লেখা সোনালি একটি দিন। ২০১৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তেমনই একটি সোনালি দিন হতে যাচ্ছে। ভারতের মাটিতে এর আগে ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ খেললেও এই প্রথম খেলছে টেস্ট। সুতরাং টেস্টটি নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক। যদিও টাইগার অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম টেস্টটিকে ঐতিহাসিক বলতে চাইছেন না। হয়তো চাপ এড়াতেই এমনটি বলছেন টাইগার অধিনায়ক। কিন্তু কোহলি কোনো প্রশ্ন না রেখেই টেস্টটিকে ঐতিহাসিকের ট্যাগ দিয়ে দেন, ‘বাংলাদেশে আমরা অনেকবার খেলতে গিয়েছি। বাংলাদেশ খুব বেশিবার আসেনি ভারতে। টেস্ট খেলতে তো নয়ই। সুতরাং আমার দৃষ্টিতে এটা অবশ্যই ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’  ২০১০ সালে অভিষেক টেস্টে জনারণ্যে পরিণত হয়েছিল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। হায়দরাবাদ সেই রূপ নেবে না নিশ্চিত। কিন্তু এটা সত্যি, টেস্ট ক্রিকেটের ১৪০ বছরের ইতিহাসে কোনো সন্দেহ নেই আজ ‘অনন্য’ একদিন হয়ে থাকবে।


আপনার মন্তব্য