শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২২:৫৬

‘কথা দিলাম ৩০০ হবে’

মেজবাহ্-উল-হক

‘কথা দিলাম ৩০০ হবে’

‘আমার কাছে মনে হয় মানুষের মধ্যে মধ্যে একটু খারাপ সময় যায়। দল হিসেবে আমরা হয়তো খারাপ সময় পার করছি। ইনশাল্লাহ আমরা এটা ওভারকামের জন্য কাজ করছি। কথা দিচ্ছি, আমাদের টিমের কেউ না কেউ ১০০, ২০০ বা ৩০০ করবে।’

 

প্রেস কনফারেন্সে অধিনায়ক মুমিনুল হকের মুখে শুকনো হাসি! কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে দেখেও খুব একটা আত্মবিশ্বাসী মনে হয়নি। খুব চেষ্টা করলেন হাসতে! কিন্তু  সে হাসিতে আত্মবিশ্বাসের লেশমাত্র ছিল না! আজ জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্ট শুরু। কোচ-অধিনায়ক  কেউ-ই জোর দিয়ে বলতে পারলেন না আমরা জিম্বাবুয়েকে হারাবোই!

অনিশ্চয়তার ক্রিকেটে জয়-পরাজয়ের কথা আগে বলাও কঠিন! তাই বলে যে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সুখস্মৃতি আছে সেখানে জিম্বাবুয়ে কি খুব বড় প্রতিপক্ষ?

সময়টা বড় কঠিন। সাদা পোশাকে দল যে এখন আটকে  গেছে পরাজয়ের বৃত্তে। শেষ ছয় ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৫ ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে। একমাত্র  যে ম্যাচে টাইগাররা ইনিংস হার এড়াতে পেরেছে সেটিতে প্রতিপক্ষ ছিল ‘নবাগত’ আফগানিস্তান। সে ম্যাচটি ছিল আবার ঘরের মাঠে, আর হারের ব্যবধান ২২৪ রানের।

আহা! টেস্ট ক্রিকেট! কোনো খাদে পড়ে গেছে বাংলাদেশ?

না হয় জয়-পরাজয়ের হিসাব বাদই থাকল! কিন্তু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স? সেখানেও হতাশার সমুদ্র! বাংলাদেশের  শেষ ১০ ইনিংসে নেই কোনো সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই হ্যামিল্টন টেস্টের পর আর কোনো টাইগার ব্যাটসম্যান শতকের মুখ দেখেননি।

২০১৮ সালে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজটি ছিল স্বপ্নের মতো। টাইগাররা ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে ছাড়ে। প্রথম টেস্টে জয় ৬৪ রানে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যবধান ছিল ইনিংস ও ১৮৪ রানের। নিউজিল্যান্ডেও প্রথম টেস্টটি ছিল দারুণ। হ্যামিল্টনে প্রথম ইনিংসে তামিম ইকবাল এবং দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেছিলেন সৌম্য সরকার ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ওয়েলিংটনে প্রথম ইনিংসে তামিম এবং দ্বিতীয় ইনিংসে মাহমুদুল্লাহর হাফ সেঞ্চুরি।

 টেস্টে হতাশার শুরু এরপর থেকেই। ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হোঁচট। ওই টেস্টে যেখানে আফগান ব্যাটসম্যান রহমত শাহ সেঞ্চুরি করেছিলেন  সেখানে দুই ইনিংস মিলে বাংলাদেশের ইনিংসে কোনো  সেঞ্চুরি নেই। হাফ সেঞ্চুরিই ছিল মাত্র একটি, প্রথম ইনিংসে মুমিনুলের ৫২।

ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজটি ছিল খুবই লজ্জার। দুই টেস্টেই ইনিংস ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি তো দূরের কথা দলীয় সেঞ্চুরি করাই যেন ছিল চ্যালেঞ্জিং। ইন্দোরে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে স্কোর দুটি ছিল ১৫০ ও ২১৩। দ্বিতীয় টেস্ট ছিল আরও লজ্জার। গোলাপি বলের ঐতিহাসিক টেস্টে সোয়া দুই দিনেই খেলা শেষ। স্কোর ছিল ১০৬ ও ১৯৫। ইন্দোরে যেখানে ভারতীয় ব্যাটসম্যান আগারওয়াল একাই খেলেন ২৪৩ রানের ইনিংস সেখানে দুই ইনিংস মিলে হাফ সেঞ্চুরি কেবল মুশফিকুর রহিমের ৬৪। লজ্জার কলকাতা টেস্টেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুশফিকের ৭৪।

তারপর দুঃস্বপ্নের রাওয়ালপিন্ডি টেস্ট। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান মধ্যে সেঞ্চুরিও তো নেই-ই হাফ সেঞ্চুরি মাত্র একটি। প্রথম ইনিংসে মোহাম্মদ মিথুনের ৬৩। দুই ইনিংসে দলীয় স্কোর ২১৩ ও ১৬৮। অথচ এই টেস্টেই এক ইনিংসে পাকিস্তানের দুই ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করেছেন- শান মাসুদ ও বাবর আজম। বাংলাদেশ হেরেও গেছে ইনিংস ও ৪৪ রানে। তবে দেরিতে হলেও যেন বোধোদয় হয়েছে বাংলাদেশের। তাই তো কাল সংবাদ সম্মেলনে কথা দিয়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল হক। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে এই ম্যাচে সেঞ্চুরি তো কারও না কারও হবেই, ইনিংসটি ৩০০ও হতে পারে।

হ্যাঁ, ব্যক্তিগত ৩০০ রানের স্কোরের কথাই বলেছেন মুমিনুল, ‘আমার কাছে মনে হয় মানুষের মধ্যে মধ্যে একটু খারাপ সময় যায়। দল হিসেবে আমরা হয়তো খারাপ সময় পার করছি। ইনশাল্লাহ আমরা এটা ওভারকামের জন্য কাজ করছি। কথা দিচ্ছি, আমাদের টিমের কেউ না কেউ ১০০, ২০০ বা ৩০০ করবে।’

প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে হলেও বাস্তবতা খুব ভালো করেই  বোঝেন মুমিনুল। এই দলটির বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সব  শেষ সিরিজে প্রথম ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ। তাই হালকাভাবে দেখার কোনো উপায় নেই। টাইগাররা মাঠে নামবে পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙতে। ক্যাপ্টেনের ভাষ্য, ‘দেখেন প্রত্যেকটা সিরিজেই, ম্যাচেই যখন আমরা খেলতে নামি তখন আমরা কিন্তু জেতার জন্যই নামি। এটা জিম্বাবুয়ে  হোক অস্ট্রেলিয়া হোক যেই হোক। ডেসপারেটলি ভালো ক্রিকেট খেলার ভাবনা সবার। অনুশীলন সেশনেও লাস্ট ৩-৪/৫ দিন ধরে অনুশীলনে সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’


আপনার মন্তব্য