শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২০ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৪৬

ফিরেই ভয়ংকর সাকিব

মেজবাহ্-উল-হক

ফিরেই ভয়ংকর সাকিব
ছবি : বাংলাদেশ প্রতিদিন

লিটন দাস আউট হওয়ার পর যখন নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাট হাতে ড্রেসিংরুম থেকে বাইশগজের উদ্দেশে হাঁটছিলেন তখন কেমন লাগছিল সাকিব আল হাসানের! যে ‘ওয়ান ডাউনে’ ব্যাট করে নিজের সর্বশেষ টুর্নামেন্টে অর্থাৎ বিশ্বকাপের মতো আসরে ৮৬.৫৭ গড়ে করেছেন ৬০৬ রান। পরের টুর্নামেন্টেই নিজের ‘প্রিয় পজিশন’ হারালেন!

না, এমন ম্যাচে সাকিবের মোটেও খারাপ লাগার কিছু নেই। কারণ ম্যাচটা যে তিনি অনেকটা ‘শেষ’ করেই দিয়েছেন বল হাতে। কিপ্টেমির নতুন রেকর্ড গড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে প্যাকেট করে দিয়েছেন মাত্র ১২২ রানে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৬ উইকেটের দারুণ জয় তুলে নিয়েছে। প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ‘সেরা’ হয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

সাকিব ৭.২ ওভার বোলিং করে মাত্র ৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। সঙ্গে দুটি মেডেন ওভার ছিল। ৭.২-২-৮-৪ ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো এক বোলিং ফিগার।

কাল সাকিব দুই স্পেলে বোলিং করেছেন। প্রথম স্পেলটি ছিল ৭ ওভারের। ৭-২-৮-৩ -দেখেই বোঝা যায় কতটা ভয়ংকর ছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। দ্বিতীয় স্পেল ০.২-০-০-১। কিপ্টেমির নতুন রেকর্ড গড়েছেন সাকিব। এর আগেও রেকর্ডটি তার দখলেই ছিল। গতকাল নিজের রেকর্ডই আরও মজবুত করলেন।

কমপক্ষে ৫ ওভার বোলিং করেছেন এমন কিপ্টে বোলারদের তালিকার সবার ওপরে ছিল সাকিবের নাম। এর আগে তার ইকোনমি রেট ছিল ১.১০।  ২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি মিরপুরের এই স্টেডিয়ামেই তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১০ ওভারে ১১ রানে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। গতকাল সাকিবের ইকোনমি রেট ১.০৯। এক যুগ আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন আরেক রেকর্ড গড়লেন।

৪৪টি ডেলিভারির মধ্যে ডটবল করেছেন ৩৬টি। বাউন্ডারি তো দূরের কথা, সাকিবের বোলিংয়ের সময় যেন রীতিমতো কাঁপছিলেন ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সাকিবের সেরা বোলিং। এর আগেও একবার ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন সাকিব। ২০১১ সালে সেবার ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন। সে ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ৬১ রানে অলআউট করেছিল বাংলাদেশ।

ওয়ানডেতে সাকিবের ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে আফগানিস্তান এবং জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৫টি করে উইকেট নেওয়ার কীর্তি আছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের।

গতকাল উইন্ডিজের বিরুদ্ধে সাকিব নিজের দ্বিতীয় ওভারে ম্যাকার্থিকে বোল্ড করেন। নিজের চতুর্থ ওভারে ডিফেন্স করতে গিয়ে জেসন মোহাম্মদ স্টাম্পিং হয়ে যান। সাকিবের পঞ্চম ওভারে ডিফেন্স করতে গিয়ে বোনার লেগ বিফোর। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের শেষ উইকেটটি ছিল অসাধারণ। ক্যারিবীয় তারকা জোসেফকে রীতিমতো বোকা বানিয়ে বোল্ড করেন। 

বাংলাদেশের ৬ উইকেটের সহজ জয়ে প্রধান ভূমিকা রাখায় ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতলেন সাকিব। ম্যাচ শেষে বলেন, ‘আমি কিছুটা নার্ভাস ফিল করছিলাম। অনেক দিন পর খেলছি তো (আন্তর্জাতিক ম্যাচ)। আমার লক্ষ্য ছিল, নির্দিষ্ট জায়গায় বল ফেলা, যাতে ব্যাটসম্যানরা ঠিকমতো খেলতে না পারেন। আশা করছি পরের ম্যাচে সব ঠিক হয়ে যাবে।’

সাকিবের খেলা দেখে মনেই হয়নি তিনি দীর্ঘ ৪৮৭ দিন পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছেন। বাইশগজে নেমেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার জানিয়ে দিলেন তিনি এখনো সম্রাট। বিশ্বকাপে যেখান থেকে শেষ করেছিলেন যেন সেখান থেকেই শুরু করলেন। কেবল মাঝের দিনগুলো ছিল নিছক অবকাশের সময় মাত্র।

সাকিবের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের দিনে পেসার হাসান মাহমুদের অভিষেকটা হলো দুর্দান্ত। প্রথম ম্যাচেই ৩ উইকেট নিয়েছেন। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেছিলেন এই তরুণ পেসার।

করোনার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ম্যাচে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে উড়িয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। দারুণ এক জয়            নিয়ে শুরু হলো ক্যাপ্টেন তামিমের যুগ।

 

স্কোরকার্ড

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১২২/১০, ৩২.২ ওভার

(সুনীল ৭, জশুয়া ৯, ম্যাকার্থি ১২, জেসন ১৭, কাইল ৪০, রোভম্যান ২৮, আলজারি ৪, আকিল ১; সাকিব ৪/৮, হাসান ৩/২৮, মুস্তাফিজ ২/২০, মেহেদী ১/২৯)।

বাংলাদেশ : ১২৫/৪, ৩৩.৫ ওভার

(লিটন ১৪, তামিম ৪৪, নাজমুল ১, সাকিব ১৯, মুশফিক ১৯, মাহমুদুল্লাহ ৯; আকিল ৩/২৬, জেসন মোহাম্মদ ১/১৯)।

ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা : সাকিব আল হাসান।


আপনার মন্তব্য