শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ২২ মার্চ, ২০২১ ২২:৪১

নিবন্ধনহীন অটোরিকশার দৌরাত্ম্য

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

নিবন্ধনহীন অটোরিকশার দৌরাত্ম্য
Google News

সড়ক বিভাগের ২০১৩ সালের ১৩ মার্চের এক সভায় চট্টগ্রামে ৪ হাজার অটোরিকশা নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আট বছর পার হলেও এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। পক্ষান্তরে ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল তৎকালীন মেয়র, সিএমপি কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম নগরে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সভায় বর্ধিত যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় নতুন করে ৪ হাজার অটোরিকশা নিবন্ধন দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু গত চার বছরেও সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি।        

নগরে জনসংখ্যা বাড়লেও বাড়ছে না অটোরিকশা। এ কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। সঙ্গে আছে অনিবন্ধিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য। পক্ষান্তরে বেড়েছে লাইসেন্সধারী চালক, কিন্তু কমেছে অটোরিকশা। প্রায় ১০ হাজার চালক এখন বেকার হয়ে আছেন।

জানা যায়, ২০০১ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৩ হাজার করে ২৬ হাজার অটোরিকশা নিবন্ধন দেয় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)।

এসব গাড়ির মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ বছর। চট্টগ্রামের ১৩ হাজার অটোরিকশার মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ১২ হাজার অটোরিকশা স্ক্র্যাপ করার পর প্রতিস্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

চট্টগ্রাম অটোরিকশা-অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনুর রশীদ বলেন, ২০০১ সালে চট্টগ্রাম নগরে ১৩ হাজার অটোরিকশা নিবন্ধন দেওয়া হয়। গত ২০ বছরে নগরে জনসংখ্যা বেড়েছে, গাড়ির চাহিদা বেড়েছে।

কিন্তু বাড়েনি অটোরিকশা। ২০১৩ সালের মার্চে মন্ত্রণালয় চট্টগ্রামে আরও ৪ হাজার অটোরিকশা নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অথচ এরই মধ্যে লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু নতুন অটোরিকশা না বাড়ায় নগরে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার চালক বেকার।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, অটোরিকশা নিবন্ধনের ব্যাপারে সরকারি একটা নীতিমালা আছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম নগরে নতুন করে অটোরিকশা নিবন্ধন দেওয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অটোরিকশা নিবন্ধন দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে চট্টগ্রামে নতুন করে অটোরিকশার চাহিদা আছে। 

জানা যায়, ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ সড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় বিআরটিএর তৎকালীন চেয়ারম্যান ‘চট্টগ্রাম শহরে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদার তুলনায় সিএনজি অটোরিকশার নির্ধারিত সিলিং সংখ্যা কম উল্লেখ করে নিবন্ধিত ১৩ হাজারের বাইরে অতিরিক্ত আরও ৫ হাজার সিএনজি অটোরিকশা বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন। সভায় আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগরের জন্য অতিরিক্ত ৪ হাজার অটোরিকশা বরাদ্দ দিয়ে নিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা ১৭ হাজারে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য বরাদ্দ নীতিমালা তৈরির জন্য বিআরটিএ চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওই বছরের ৯ এপ্রিল ‘সিএনজি/পেট্রোলচালিত ৪-স্ট্রোক থ্রি-হুইলার সার্ভিস নীতিমালা, ২০০৭’  সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারির জন্য অনুরোধ জানিয়ে সড়ক বিভাগের সচিবকে চিঠি দেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে একটি খসড়া প্রজ্ঞাপনও সড়ক বিভাগের সচিবকে দেওয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ আট বছরেও ওই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।