শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০৭

উদ্ভাবন

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি রায়ান সাদীর চমক

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ড. রায়ান সাদীর উদ্ভাবিত করোনা ওষুধ

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি রায়ান সাদীর চমক
Google News

করোনাভাইরাস মহামারীতে বর্তমান বিশ্বে বেঁচে থাকার বড় হাতিয়ার টিকা কিংবা ওষুধ। দীর্ঘ গবেষণা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. রায়ান সাদী উদ্ভাবিত করোনা নির্মূলের ওষুধ বাজারে আসার পথ সুগম হলো। বাংলাদেশি আমেরিকান চিকিৎসাবিজ্ঞানী ড. রায়ান সাদীর আবিষ্কৃত টিভিজিএন-৪৮৯ (TVGN-489) এবং সাইটোটক্সিক টি লিম্ফোসাইটস (Cytotoxic T Lymphocytes) ওষুধের বাজারজাতকরণের প্রাক্কলিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল ওষুধ প্রশাসন তথা এফডিএ। নিউজার্সিতে অবস্থিত বায়ো-টেকনোলজি কোম্পানি ‘টেভোজেন বায়ো’র সিইও এবং গবেষণা টিমের প্রধান ড. রায়ানের এ আবিষ্কারের সংবাদ বিশ্বমিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। করোনা মহামারীতে বিধ্বস্ত অর্থনীতি এবং মুষড়ে পড়া জনজীবনকে চাঙা করতে এমন ওষুধের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছিলেন সবাই। করোনার প্রকোপ শুরুর পরই পাবনার সন্তান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করা রায়ান সাদী নির্বিঘ্নচিত্তে ওষুধ আবিষ্কারে মনোনিবেশ করেন। গত বছরের অক্টোবরে তাঁর গবেষণা শেষ হয় এবং এফডিএর অনুমতির আবেদন করেছিলেন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী এফডিএ তাঁর পর্যবেক্ষণ-বিশ্লেষণ শেষে এটি করোনা নির্মূলে সক্ষম বলে নিশ্চিত হওয়ার পরই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য পাঠিয়েছেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী ১২ জুলাই ‘টেভোজেন বায়ো’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। এই ট্রায়ালের মাধ্যমে ‘টিভিজিএন-৪৮৯’ মানবদেহের জন্য নিরাপদ তা নিশ্চিত হতে চায় এফডিএ। উল্লেখ্য, করোনার টিকা গ্রহণ করলে মানুষ করোনার সংক্রমণ প্রতিহত করার ক্ষমতা অর্জন করে। করোনাভাইরাসকে মেরে ফেলতে পারে না। ড. সাদীর এ ওষুধ করোনার জীবাণুকে নির্মূল করতে পারবে। ট্রায়ালের মাধ্যমে করোনায় আক্রান্তরা এই ওষুধ গ্রহণ করলে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়বে না- তাও নিশ্চিত হতে চায় মার্কিন স্বাস্থ্য প্রশাসন। এ ছাড়া, এই ওষুধ গ্রহণকারীরা কত দীর্ঘ সময়ের জন্য করোনার মতো ভয়ংকর ভাইরাসের আক্রমণ থেকে দূরে থাকতে সক্ষম, তাও ট্রায়ালের অন্তর্ভুক্ত। বিদ্যমান চিকিৎসাব্যবস্থার চেয়ে এই ওষুধের গুণগতমান কতটা ভালো তাও খতিয়ে দেখবেন বিজ্ঞানীরা। ইয়েল ইউনিভার্সিটির সংক্রমণ রোগ বিষয়ে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ড. রায়ান বলেন, স্বাধীনভাবে ট্রায়ালের জন্য এফডিএ থেকে অতিদ্রুত ছাড়পত্র পাওয়ায় আমি এবং আমার সহকর্মীরা খুবই সন্তুষ্ট। কারণ সারস-সিওভি-২-এর সংক্রমণ রোধে সক্ষম কোষগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই ওষুধ অপরিসীম ভূমিকা রাখবে। কোষ থেরাপির মাধ্যমে মহামারী দেখা দেওয়া অঞ্চলেও এ ওষুধের সুফল পাবেন আক্রান্তরা। এমন চিকিৎসাব্যবস্থায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাও দূর করতে ভূমিকা রাখবে এ ওষুধ। ড. রায়ান উল্লেখ করেন, খুব দ্রুত এটি বাজারজাত করতে আমার টিম আন্তরিক অর্থেই সজাগ রয়েছে। ড. সাদী বলেন, এই ওষুধ কোষে ঠাঁই নেওয়া ভাইরাসকে একেবারেই নিঃশেষ করবে। তার ফলে রোগী স্বল্পতম সময়ে আরোগ্য লাভে সক্ষম হবে। আবিষ্কৃত ওষুধ টিভিজিএন-৪৮৯ প্রসঙ্গে বিজ্ঞানী সাদী বলেন, এটি ভাইরাসের গতিবিধি চিহ্নিত করতে পারে এবং তা মেরে ফেলে সুস্থ মানুষের কোষের মতো কোষ সৃষ্টিতে সক্ষম হবে। ইতিমধ্যেই পরিচালিত পর্যবেক্ষণ জরিপে (প্রি-ক্লিনিক্যাল) আমরা নিশ্চিত হয়েছি, করোনাভাইরাস-বিরোধী একটি সক্ষমতা রয়েছে এই টিভিজিএন-৪৮৯ এ।

যেভাবেই আবির্ভূত হোক না কেন সে ভাইরাস চিরতরে নির্মূলে সক্ষম এই টিভিজিএন-৪৮৯- এমন কথা বলেছেন এই ওষুধ আবিষ্কারের নেপথ্য পৃষ্ঠপোষক থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটির মেডিকেল অনকোলজি ডিপার্টমেন্টের চেয়ার ড. নিল ফ্লোমেনবার্গ। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আমরা এই ওষুধকে নিরাপদ বলতে পারি। এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালেও তা সব ধরনের ভাইরাস নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রমাণিত হবে- সেটিই আশা করছি।