Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:৫৬
হজের শিক্ষা ধারণ করতে হবে
মুফতি সীফাতুল্লাহ

হজ পালন শেষে হাজী সাহেবানরা দেশে ফিরে এসেছেন। হজের মাধ্যমে তারা শিরকমুক্ত জীবনযাপন এবং সদা সর্বদা মহান আল্লাহর দরবারে উপস্থিতির যে মনোভাব অর্জন করেছেন তা আমৃত্যু ধরে রাখতে হবে।

মনেপ্রাণে বিশ্বাস রাখতে হবে সব ক্ষমতা, সম্পদ, ইজ্জত এ সবকিছুর প্রকৃত মালিক হচ্ছেন আল্লাহ।

তালবিয়ার বাক্য লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক আমাদের উল্লিখিত বিষয়গুলো শিক্ষা দিয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে— নিশ্চয়, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্ত করে, আল্লাহ তার জন্য ‘জান্নাত’ হারাম করে দেন এবং তার বাসস্থান জাহান্নাম। অত্যাচারীদের কোনো সাহায্যকারী নেই। (সূরা মায়িদা-৭২)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন হে আল্লাহ! তুমি সার্বভৌম রাজত্বের অধিকারী, যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা বাজত্ব ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানিত কর। ’ তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয় তুমি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাশীল। (সূরা আল ইমরান-২৬)।

অন্তরের অন্তস্থলে মহান আল্লাহ এবং তার প্রিয় রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অধিক ভালোবাসাকে স্থান দেওয়ার জন্য কাবা শরিফের তাওয়াফ আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। কেননা, মহান আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং ধ্যান করেই তাওয়াফ করতে হয়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে— ‘ইমানদারগণ মহান আল্লাহকে অত্যধিক ভালোবাসে’ (সূরা বাকারা-১৬৫)। সদা সর্বদা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলা এবং চলতে সাহায্য করা। সাফা এবং মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের সাঈ আমাদের এটাই শিক্ষা দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা বের হয়ে পড়! স্বল্প বা প্রচুর সরঞ্জাম নিয়ে এবং জিহাদ কর! আল্লাহর পথে, নিজেদের মাল ও জান দিয়ে, এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে (তাহলে অনেক ভালো হতো) (সূরা তাওবাহ ৪১)।

মহান আল্লাহর কাছে সদা সর্বদা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকা, উকুফে আরাফাহ, আমাদের সে শিক্ষা দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর তোমরা ফিরে আস (হে কুরাইশ!) যেখান (আরাফাহ) থেকে সবাই ফিরে আসে। আর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকারী, করুণাময় (সূরা বাকারা : ১৯৯)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নিজেদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষল ধারায় বৃষ্টি দান করবেন। ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন। বাগবাগান সৃষ্টি করবেন। নদীনালা প্রবাহিত করবেন। (সূরা নূহ : ১০-১৩)।

ইসলামের বিধিনিষেধ প্রচার করাকে নিজের দায়িত্ব মনে করা। ১০ জিলহজ কোরবানির দিনে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ আমাদের এটাই শিক্ষা দিয়েছে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘অতি শিগগিরই তোমরা মহান প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, তিনি তোমাদেরকে তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন। সাবধান! আমার মৃত্যুর পর তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যেও না যে, তোমাদের একদল আরেক দলের গর্দান কেটে ফেলবে। (অর্থাৎ তোমরা একদল আরেক দলকে হত্যা কর না)। আমি কি তোমাদের কাছে পৌঁছিয়েছি? সাহাবিরা বললেন, হ্যাঁ! তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থাক, অতঃপর বললেন, উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিত লোকদের কাছে এ কথাগুলো পৌঁছে দেয় (বুখারি ও মুসলিম, মেশকাত শরিফ ২৩৩ পৃষ্ঠা)।

সকাল-সন্ধ্যা মহান আল্লাহর জিকির করা। উকুফে ‘মুজদালিফা’ আমাদের এটাই শিক্ষা দিয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘অতঃপর যখন তোমরা আরাফাহ থেকে ফিরে আসবে, তখন মাসআরে হারাম অথবা হারামের (মুজদালিফার পাহাড়) আল্লাহর জিকির স্মরণ কর (সূরা বাকারা ১৯৮)। অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে বিশ্বাসীগণ তোমরা অধিক পরিমাণে আল্লাহর জিকির কর এবং সকাল-বিকাল আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা কর। ’ (সূরা আহজাব ৪১ ও ৪২)।

কুমন্ত্রণা এবং অপকর্মের মনোভাব থেকে মুক্ত থাকা, ‘প্রস্তর নিক্ষেপ’ আমাদের এটাই শিক্ষা দিয়েছে। ‘যদি তোমরা (অপকর্মের) মনোভাব প্রকাশ কর অথবা তা গোপনে রাখ, আল্লাহ তোমাদের কাছ থেকে হিসাব নেবেন। অতঃপর যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন, আল্লাহ সর্ব বিষয়ে শক্তিমান। (সূরা বাকারা ২৮৪)।

ত্যাগ ও তিতিক্ষার মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে জীবনযাপন করা, ভোগ-বিলাসী জীবনযাপন পরিহার করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে রসুল! বলে দিন! দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের সামগ্রী সীমিত, আর আখেরাত আল্লাহভীরুদের জন্য উত্তম। (সূরা নিসা ৭৭)।

নিজেদের জান এবং মাল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যয় করা, পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে নিশ্চয়! আমি আপনাকে কাওছার দান করছি। অতঃপর আপনার পালনকর্তার সন্তুষ্টি অর্জনে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন। (সূরা কাওছার ১-২)।

কোরবানির আমল আমাদের শেষ দুটি বিষয় শিক্ষা দিয়েছে।   আল্লাহ আমাদের সবাইকে আলোচ্য শিক্ষাগুলো আমৃত্যু পালন করার তৌফিক দান করুন।

লেখক : ইমাম ও খতিব, শেওড়াপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ

এই পাতার আরো খবর
up-arrow