Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০ টা
আপলোড : ৯ অক্টোবর, ২০১৭ ২৩:০৩

এ জটিলতার অবসান হোক

সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বস্তি দিন

এ জটিলতার অবসান হোক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত রাজধানীর সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা অনার্স চতুর্থ বছরের ফল প্রকাশের দাবিতে রবিবার রাজপথে নেমেছিলেন। যানজটের নগরীতে শিক্ষার্থীদের রাজপথে অবস্থান পুরো রাজধানীকে অচল নগরীতে পরিণত করে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাত কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর শুরু হয় সংকট। পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণার দাবিতে গত জুলাইয়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়। সে সময় পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসের শেলে চোখ হারান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান। রবিবার শিক্ষার্থীরা যে দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন তা যে যৌক্তিক সন্দেহ নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ফল প্রকাশ পেয়েছে গত মে মাসেই। সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ফল প্রকাশ না হওয়ায় স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারছেন না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা রাজধানীর সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয় এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে। ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। কিন্তু দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ কর্তার দ্বন্দ্বের কারণে এ সিদ্ধান্তের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে, দেশের সাত গুরুত্বপূর্ণ কলেজ নিজেদের হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ক্ষোভে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে অসহযোগিতা করায় সংকটের শুরু। অন্যদিকে প্রায় ২ লাখ কলেজ শিক্ষার্থীর ব্যবস্থাপনার জন্য যে লোকবল দরকার তা এ মুহূর্তে না থাকায়ও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্যের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের ঘাটতি থাকায় সমস্যার জট খোলেনি গত আট মাসেও। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ায় অচিরেই বরফ গলবে এমনটিও আশা করা হচ্ছে। সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের এ ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য। আমরা আশা করব সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বস্তি দিতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নজর দেবে। এটি তাদের কর্তব্য বলে বিবেচিত হওয়া উচিত।


আপনার মন্তব্য