শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২২:৫৪

ফড়িয়াদের দখলে বাজার

এ নৈরাজ্যের অবসান ঘটুক

পণ্যের বাজার এখন ফড়িয়াদের হাতে। কৃষক নন, খুচরা বিক্রেতারা নন, মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়ারাই সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। উৎপাদন এলাকায় যে দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে রাজধানীতে ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছতে দ্বিগুণ তো বটেই কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন গুণ অর্থও গুনতে হচ্ছে। সরকারের এত প্রতিশ্রুতির পরও পিয়াজের দাম কমছে না। বিদেশ থেকে যে পিয়াজ আমদানি হচ্ছে তা চলে যাচ্ছে টিসিবির হাতে। টিসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে তা বিক্রির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ পিয়াজের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে কালোবাজারে- এমন অভিযোগ ওপেন সিক্রেট। বাকি অংশ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা কেজি দরে। লাইন দিয়ে পিয়াজ কেনার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের লাভ হচ্ছে না। আমদানিকারকদের কাছ থেকে সরাসরি ব্যবসায়ীদের কাছে পিয়াজ বিক্রির ব্যবস্থা করা হলে এই নিত্যপণ্যের দাম যে সহনীয় পর্যায়ে আসত তা সহজেই অনুমেয়। পণ্য বিতরণ-ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় সাধারণ ক্রেতারা ঠকছেন। আর কৃষকের ঠকার বিষয়টি তো নিয়তির লিখনে পরিণত হয়েছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরায় কৃষকের ফসলহানি হলে অনাহার-অর্ধাহার তাদের জন্য অনিবার্য হয়ে ওঠে। উৎপাদন বেশি হলেও লাভের বদলে লোকসানের ভাগী হতে হয় কৃষককে। ধানের ন্যায্যমূল্য কৃষক পাচ্ছে না কয়েক বছর ধরে। সরকার ধান ওঠার মৌসুমে যে ধান-চাল সংগ্রহ করে তার সুফল ভোগ করেন চালকল মালিকরা। পিয়াজ ও আলু ওঠার মৌসুমে যে দামে এ দুটি পণ্য বিক্রি হয় তাতে উৎপাদন খরচ ওঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কৃষক পিয়াজ উৎপাদনে উৎসাহী হন না। চাহিদার এক তৃতীয়াংশ পিয়াজ আমদানি হয় ভারত থেকে। এ বছর ভারতে বন্যার কারণে পিয়াজ উৎপাদন মার খাওয়ায় বাংলাদেশে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নিত্যপণ্য বিশেষত পিয়াজসহ সব ধরনের সবজি ও ধান-চালের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হলে ফড়িয়াদের আধিপত্য থামাতে হবে। উৎপাদন মৌসুমে কৃষক যাতে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করতে পারেন সেই সুবিধা সৃষ্টি করতে হবে। চাল ও পিয়াজের সংকট এড়াতে হলে কৃষকবান্ধব বিপণন-ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার।


আপনার মন্তব্য