শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৪

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি

নিত্যপণ্যের দামে প্রভাব ফেলছে

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মুখ্য ভূমিকা পালন করে মার্কিন মুদ্রা ডলার। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। খোলাবাজারে দাম ৮৮ টাকা ছুঁইছুঁই করছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে স্বাভাবিকভাবে কমছে টাকার দাম। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাদের একই পণ্য কিনতে হচ্ছে আগের চেয়ে বেশি দামে। ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন মারাত্মক সংকটে। তেল, চিনি, গম, ডাল, পিয়াজ, রসুন, আদাসহ অনেক পণ্যে বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর। ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় টাকার হিসাবে আমদানি ব্যয় বাড়ছে। বাড়ছে জীবনযাত্রার খরচ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলারের দাম বৃদ্ধি রপ্তানিকারকদের জন্য সহায়ক হলেও আমদানিকারকদের জন্য কষ্টের। কারণ আমাদের দেশে রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি। ফলে দ্রব্যমূল্যে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ে বেশি। তাই পর্যায়ক্রমে ডলার সঠিক দামে আনা উচিত। দেশের বাজারে মঙ্গলবার প্রতি ডলার কেনা হয় ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা, আর বিক্রি হয়েছে ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্যমতে, আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েই চলেছে। এক বছরের ব্যবধানে প্রতি ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা। ডলারের দাম বাড়লে রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স প্রেরণকারীরা দৃশ্যত লাভবান হন। অন্যদিকে আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। দাম বৃদ্ধির সুফল রপ্তানিকারকরা যদি কাজে লাগাতে না পারেন তাহলে এতে লাভের বদলে ক্ষতি হবে বেশি। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক থেকে। কিন্তু পোশাকশিল্পের ক্রেতারা রপ্তানিমূল্য কমিয়ে দিলে তাতে লোকসানের আশঙ্কাই থাকবে বেশি। কারণ পোশাকশিল্পের কাপড়, বোতাম, সুতা অনেক কিছু আমদানিনির্ভর। ডলারের দাম বৃদ্ধিতে পোশাকশিল্পের এসব উপকরণ কিনতে বেশি টাকা ব্যয় হবে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে মূলধনি যন্ত্রপাতি কেনায় উদ্যোক্তাদের বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পড়বে। তবে সার্বিক বিচারে সবচেয়ে ক্ষতি হবে সাধারণ মানুষের। ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে তাদের অনেক নিত্যপণ্য বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। দাম আরও বেড়ে গেলে সংকট গভীরতর হবে। শক্তিশালী মুদ্রা হিসেবে টাকার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে দাম হ্রাসের ধারাকে উৎসাহিত করলে। সবচেয়ে বড় কথা, এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কর্মজীবী মানুষ; যাদের আয় বাড়ার সুযোগ সার্বিক অর্থে কম।


আপনার মন্তব্য