শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

স্বাস্থ্যবিধি

সচেতনতা বাড়াতে হবে

করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে স্থবির থাকা জীবনযাত্রা পুরোমাত্রায় চালু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া কিছুই খুলতে আর বাকি নেই। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও সামগ্রিক জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সবকিছু খুলে দেওয়ার হয়তো বিকল্প ছিল না। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি যেভাবে ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে তা উদ্বেগজনক। করোনায় মৃত্যু ও সরকারি হিসাবে আক্রান্ত কিছুটা কমে আসায় সবার মধ্যে এক ধরনের স্বস্তিভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ স্বস্তির মধ্যে ব্যাপকভাবে সংক্রমণের আশঙ্কা দেখতে পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়সহ সরকারি অফিস-আদালতে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। এসব অফিসে মাস্ক পরার বিষয়টি অনেকটা নিশ্চিত হলেও সাবান-পানিতে হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে শিথিলতা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায় শতভাগই করোনার টিকা নিয়েছেন এজন্য কিছুটা হলেও করোনা আতঙ্ক কেটেছে তাদের। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে শিথিলতা অস্বাভাবিক নয়। করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় সচিবালয়ের প্রবেশমুখে হ্যান্ড থারমাল স্ক্যানারে প্রবেশকারীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হতো। মন্ত্রণালয়গুলোর প্রবেশমুখে পায়ের জুতা জীবাণুমুক্ত করার ট্রে রাখা হতো। প্রতিটি দফতরের প্রবেশমুখে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র ছিল। ছিল হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ হাত ধোয়ার সাবান-পানির ব্যবস্থা। কর্মকর্তাদের টেবিলে টেবিলে থাকত হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এখন দৃশ্য পাল্টে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ চলায় উচ্চ আদালতে অনেকটাই স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত হচ্ছে। কথা ছিল জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হবে, এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধিও মানতে হবে। গ্রামাঞ্চলে মাস্ক ও স্যানিটাইজারের ব্যবহার শুরুতেও কম ছিল, এখন তো প্রায় উঠেই গেছে। জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে বাংলাদেশে সংক্রমণ পরিস্থিতি তীব্র হতে পারে। আসুন আমরা সবাই সচেতন হই। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্ব অনেক। তারা ছাড়াও নাগরিকসমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষকসহ গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে স্বাস্থ্যবিধি মানতে মানুষকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।

এই রকম আরও টপিক