শিরোনাম
মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ, ২০২৩ ০০:০০ টা

এসেনশিয়াল ড্রাগস দুর্নীতি

আদালতের নির্দেশ আশাজাগানিয়া

আমাদের দেশে সরকারি প্রতিষ্ঠান মানেই দুর্নীতি ও যথেচ্ছতার অভয়ারণ্য। সরকারি ওষুধ প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড এর ব্যতিক্রম হবে এমনটি আশা করা সমীচীন নয়। এ প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা অসামান্য যোগ্যতা প্রদর্শন করে ৪৭৭ কোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৮ টাকা লোপাট করেছেন। কোম্পানির করিৎকর্মা ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ব্যাপারে যে অসামান্য গুণাবলির অধিকারী তা নিয়ে রটনা ছিল বিভিন্ন মহলে। কথায় বলে, চোরের ১০ দিন তো গেরস্তের এক দিন। আর তাই এ আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন হাই কোর্ট। রবিবার একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাই কোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ এ আদেশ দেন। রুলে অনৈতিক পন্থায় ও বড় ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে এসেনশিয়াল ড্রাগস থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা-ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে দুর্নীতির অপরাধ সংঘটনে জড়িত ব্যক্তি ও সত্তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপসহ কার্যক্রম শুরু করতে কেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন হাই কোর্ট। এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৪ মে পরবর্তী শুনানির জন্য দিন রেখেছেন হাই কোর্ট। একটি দৈনিকে দুর্নীতির আখড়া এসেনশিয়াল ড্রাগস সরকারি অডিটে ৩২ অনিয়ম, ৪৭৭ কোটি টাকা লোপাট শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে সরকারি অডিটেই আর্থিক বড় দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরেই গুরুতর অনিয়মের মাধ্যমে সরকারের পৌনে ৫০০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি করেছেন এ প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা। তাদের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা একটি আশাজাগানিয়া ঘটনা।

সর্বশেষ খবর