Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:১২

ইবিতে সান্ধ্যকালীন কোর্স, মোবাইলে নকল করে একদিনে ৩ পরীক্ষা!

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

ইবিতে সান্ধ্যকালীন কোর্স, মোবাইলে নকল করে একদিনে ৩ পরীক্ষা!
ড. সাজ্জাদুর রহমান টিটু

১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একদিনে তিন কোর্স ফাইনাল পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্স সমন্বয়কের বিরুদ্ধে। গত বুধবার আইন বিভাগের পরিত্যক্ত রুমের ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে কোনো কক্ষ পরিদর্শক ছাড়াই এক শিক্ষার্থী মোবাইলে নকল করে এক দিনে টানা ৯ঘন্টায় তিনটি কোর্সে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে বলে জানা গেছে। 

জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্স সমন্বয়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদুর রহমান টিটু সান্ধ্যকালীন নবম ব্যাচের ৩য় সেমিস্টারের এক শিক্ষার্থীর ১ম সেমিস্টারের পরীক্ষা এভাবে নেন। এছাড়াও ওই তিনটি কোর্স (১০৫, ১০৬, ১০৭) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক প্রণয়ন করেনি বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

গোপন তথ্যর ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হোন। ওই আবদ্ধ কক্ষে সিটকিনি বন্ধরত অবস্থা থেকে ওই শিক্ষার্থীসহ এক সাথে তিনটি পরীক্ষার খাতা, স্মাট ফোন ও নকল জব্দ করেন। আবদ্ধ কক্ষে কোন পরিদর্শের উপস্থিতি ছিলনা। 

ওই শিক্ষার্থী ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বলে আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নুরুন্নাহার নিশ্চিত করেছেন। এসব অভিযোগ এনে গত ১৯ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নুরুন্নাহার ও ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী বরাবর পৃথকভাবে লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন।

এবিষয়ে অভিযুক্ত ড. সাজ্জাদুর রহমান টিটু বলেন, ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষার সময় আমি ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলাম না। বিষয়টি আমি জানিনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন, ওই শিক্ষার্থীর ব্যাপারে আমি বিষয়টি লিখিতভাবে প্রশাসনের কাছে বিবৃতি দিয়েছি।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে পরীক্ষা সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদুর রহমান টিটুকে পরীক্ষার শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে সকল প্রকার একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলেছে। পাশাপাশি কেন তার বিরূদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবেনা তা আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। 

আজ শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, দূর্ণীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ইবি প্রশাসনের ঘোষিত লক্ষ্য। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দূর্ণীতিমুক্ত করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি।

 

বিডি প্রতিদিন/ তাফসীর আব্দুল্লাহ


আপনার মন্তব্য