ভারত গতকাল দুপুরের পর গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দিয়েছে। ফলে ব্যারাজ পয়েন্ট দিয়ে তীব্র বেগে পানি ধেয়ে আসছে। এরই মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট, ধরলা ও যমুনেশ্বরীর পানি দ্রুত বেড়ে চলেছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
লালমনিরহাট : টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে তিস্তার পানি আবারও বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এতে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসন স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানিয়েছেন, মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ১৯ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তিস্তাপারে নতুন করে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আজ (গতকাল) দুপুরের পর ভারত গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি।
পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সন্ধ্যায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেটও খুলে দেওয়া হয়েছে। পাউবো সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। দুপুর ১২টায় তা ১৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং বেলা ৩টায় ১২ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হয়। পরে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে উঠে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গীমারী, সিন্দুর্ণা ও ডাউয়াবাড়ী; কালীগঞ্জের ভোটমারী, শৈলমারী ও নোহালী; আদিতমারীর মহিষখোঁচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া ও পলাশী এবং সদর উপজেলার ফলিমারী, খুনিয়াগাছ, রাজপুর, তাজপুর ও গোকুণ্ডা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এরই মধ্যে তিস্তার চর এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। লালমনিরহাট পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টায় উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে থাকতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পানি কমার পর নদীভাঙনের ঝুঁকিও রয়েছে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাউবো প্রস্তুত। রংপুর : গত সপ্তাহে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় রংপুর অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে গঙ্গাচড়ায় সেতুরক্ষা বাঁধ ও গ্রোয়েন বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। এর রেশ কাটতে না কাটতে আবারও উজানের ঢলে পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে তিস্তা অববাহিকার পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়ছে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট, ধরলা, যমুনেশ্বরীর পানি। গতকাল বিকালে রংপুর পাউবো জানায়, সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত তিস্তার পানি ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়ে কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। উজানের ঢলে বেড়েছে রংপুরের ঘাঘট, যমুনেশ্বরীর পানিও। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, রংপুরে তিস্তার পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে এ তথ্য সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী তিন থেকে পাঁচ দিন অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৩ জুলাই কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা সতর্কসীমায় প্রবাহিত এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।