ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলে কটি পার্কসংলগ্ন এলাকায় তিন বাংলাদেশি খুনের ঘটনায় নোয়াখালীর গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম। এ ঘটনায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. শাহাদাত হোসেনকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে তার ছবি প্রকাশ করেছে ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত শুক্রবার এ খুনের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আরিশা। এ ছাড়াও গুরুতর আহত হয়েছে তাদের ছেলে অয়ন (১৮), সে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর ইতালি ও নোয়াখালীর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানা গেছে, ইতালীয় পুলিশ সন্দেহভাজন শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন একই ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং আবদুল আহাদের ছেলে। তিনি দেশে থাকাকালীন থেকেই নিহত কামালের স্ত্রী আরজুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক অশান্তির কারণে কয়েক বছর আগে কামাল উদ্দিন তার স্ত্রী ও সন্তানদের ইতালিতে নিয়ে যান। অন্যদিকে প্রায় চার বছর আগে শাহাদাত তার পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। পরবর্তীতে পারিবারিক বিচ্ছেদের পর তিনি ইতালিতে চলে আসেন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশে কামাল উদ্দিন, তার স্ত্রী আরজু এবং তাদের সন্তানদের উপস্থিতিতে শাহাদাত বৈঠকে বসেন। এক পর্যায়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে শাহাদাত ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এতে কামাল উদ্দিন, আরজু ও তাদের কন্যা আরিশা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। আহত অয়ন পালিয়ে প্রাণে বাঁচে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহাদাত তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, নিজেও মরে অন্যকেও মরার মতো করে রেখে যায়। তাই মরার সময় প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে মরা উচিত। তাতে কারও জন্য কাউকে কষ্ট পেতে হয় না।’ এরপর গত শনিবার ইতালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহাদাতের ছবি প্রকাশ করে তাকে ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে তার অবস্থান সম্পর্কে কেউ জানলে রোম পুলিশের মোবাইল ইউনিটকে তা জানানোর জন্য অনুরোধ জানায়।