ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কয়েক গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলার হামিরদী ও মানিকদাহ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রথমে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও পরে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ ঘটনায় ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আটকা পড়ে হাজারও যানবাহন। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চালক ও যাত্রীরা। পরে দুপুর দেড়টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দখলকে কেন্দ্র করে ও মাদকবিরোধী কমিটিতে একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত না করায় হামিরদী ইউনিয়ন ও মানিকদাহ ইউনিয়নের কমপক্ষে ১০ গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজোয়ান দীপু (৩৮), ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান (৪৭), ভাঙ্গা থানার তিনজন এসআই, চারজন কনস্টেবল আহত হয়ে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম ও তিনজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে আরও জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় মহেশ্বরদী গ্রামের আবুল কালাম পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ডে গেলে তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এর জের ধরে গতকাল সকাল ৭টার দিকে হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী, বড় মুচকুরনী, ছোট মুচকুরনী, মহেশ্বরদী চৌধুরীকান্দা, বিবিরকান্দা মহেশ্বরদী, মহেশ্বরদী সাহাপাড়াসহ হামিরদী ইউনিয়নের কমপক্ষে ৭ গ্রামবাসীর সঙ্গে মানিকদাহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া, ব্রাহ্মণকান্দাসহ তিন গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। এ সময় আধা ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এরপর পুনরায় দুই পক্ষ সংঘবদ্ধ হলে সকাল ৯টার দিকে পুনরায় সংঘর্ষ বাধে। দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে দুই পক্ষের হাজার হাজার লোক (উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিশোর) ঢাল, সড়কি, রামদা, লাঠি, ইটপাটকেল ও রেললাইনের পাথর নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দফায় দফায় দ্ইু পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা সংঘর্ষ থামাতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ থামাতে চেষ্টা চালান। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের ফরিদপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আনা হলে পৌনে ১টার দিকে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা তানসিভ জুবায়ের বলেন, সংঘর্ষে আহত ৩০ জন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আসেন। এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। ১৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। ১৪ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সংঘর্ষ থামাতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ব্যাপারে এখনো কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি। দীর্ঘ সময় ধরে এ সংঘর্ষে ভাঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, আমি, আমার কয়েকজন এসআই ও কনস্টেবল আহত হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।