তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় ভুগছেন ঢাকার বাইরের গ্রাহক। গ্রামে দিনে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। জেলায় জেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো পণ্য উৎপাদন করতে পারছেন না শিল্পকারখানার মালিকরা। এ ছাড়া বিশ্বকাপ ফুটবলের খেলা দেখতে না পারায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বিভিন্ন জেলার মানুষ। কিছুদিন আগেই সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। বাড়তি দাম দিয়েও বিদ্যুৎ না পেয়ে অফিস ঘেরাও করছেন গ্রাহকরা। নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় গতকাল সকালে লোডশেডিংয়ের কারণে বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা-জর্ডান ম্যাচ দেখতে না পেরে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পল্লী বিদ্যুৎতে উপজেলা জোনাল অফিসে ভাঙচুর করেন। গতকাল শুরুতেই মধ্যরাতে (রাত ২টা) চলতি মাসের সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। এ সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের। সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৭৩ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের বেশ কয়েকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে উৎপাদনও কম হচ্ছে।
তীব্র গরমে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, গ্রাহক হয়রানির প্রতিবাদে ঢাকার বাইরে বেশ কয়েকটি জেলায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও হয়েছে। বেশ কয়েক জায়গায় হয়েছে মানববন্ধন। ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সামনে গতকাল ঝালকাঠি মানব কল্যাণ সোসাইটি মানবন্ধন করে। ২৭ জুন সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করে এলাকাবাসী। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পল্লী বিদ্যুতের এক কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধর ও কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখার খবর পাওয়া গেছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় ২৬ জুন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন গ্রাহকরা। পরে তারা ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ মৌচাক জোনাল অফিস ঘেরাও করেন। পিডিবির উপপরিচালক (জনসংযোগ) মমতাজ পারভীন গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বর্তমানে রামপাল তাপভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ আছে। আরেকটি ইউনিট থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা তা থেকে ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট কম বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা থাকলেও ২০০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম দিচ্ছে। এজন্য তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর চাপ পড়ছে। সব মিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা যায়, গ্রামে লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ। এ কারণে ক্ষোভ বাড়ছে। গ্রাহকদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদ্যুতের অভাবে নির্ঘুম রাত পার করছেন ঢাকার বাইরের মানুষ। শিশু, বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বেশি। লোকসান গুনতে হচ্ছে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। ময়মনসিংহে দিনে রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। সেখানে গড়ে এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে লোকসান হচ্ছে বেশি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে চার থেকে পাঁচবার লোডশেডিং হচ্ছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গত দুই মাস ধরে দিনের ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গতকাল বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী।